বিস্তারিত

স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে কেনাকাটা

আপডেট টাইম : 1 week ago
স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে কেনাকাটা

মোঃ জুনেদ আহমদ, (শ্রীমঙ্গল) মৌলভীবাজারঃ লকডাউনে শপিংমলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে ঈদের কেনাকাটা। অধিকাংশ ক্রেতা ও বিক্রেতার মুখে নেই মাস্ক। সামাজিক দূরত্ব বজায়ের কোন বালাই নেই। দোকানগুলোতেও নেই কোন স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা। ঝুঁকি নিয়েই ক্রেতা-বিক্রেতায় জমজমাট ঈদের বাজার। 

 

সরেজমিনে মঙ্গলবার বেলা ১ টার দিকে চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানার এমন দৃশ্য দেখা যায়। এদিকে করোনা সংক্রমণে মৌলভীবাজার জেলা প্রথমসারির সংক্রমণ ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

কোভিড- ১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় পর্যায়ে যখন সংক্রমণের কারণে মানুষ জীবন বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে, সেখানে শহরের বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে কেনাকাটা।

 

বিশেষ করে ঈদ মৌসুমকে কাজে লাগাতে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন অনেকেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা মার্কেটগুলোতে দেখা যায়নি স্বাস্থ্য সুরক্ষার কৌশল বা স্বাস্থ্যবিধি নীতিমালা অনুসরণ।

 

মার্কেটেগুলোতে জনসাধারণের উপস্থিতি যেনো করোনার ভয়কেও জয় করেছে। শহরের স্টেশন রোড, ভানুগাছ রোড, পোস্ট অফিস রোড, হবিগঞ্জ রোড এ অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেটগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন। কোথাও আবার ধারণ ক্ষমতার চেয়েও বেশি মানুষ দেখা গেছে কোনো কোনো মার্কেটে। 

 

পরিবারকে নিয়ে মার্কেটে আসা সুহেল মিয়া বলেন, ভাই আমাদেরকে বলে কি লাভ। দোকানপাট খোলা তাই ঈদের মার্কেট করতে আসছি। ভুলে বাসায় মাস্ক রেখে আসছি। এখন কিনে নেব। মার্কেটে তো অনেকেই মাস্ক ছাড়া আসছে, কই এতে ব্যবসায়ীরা তো কিছু বলছেন না।

 

প্রভাষক জলি পাল বলেন, দেশের অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে সরকার লকডাউন শিথিল করেছে। কিন্ত মানুষের জীবন এবং জীবিকা দুটোই রক্ষা করা অতীব জরুরি।

 

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন হচ্ছে কিনা সেটা সার্বক্ষণিক মনিটর করাও সরকারের দায়িত্বের ভিতর পরে।

 

কারণ সংক্রমণ বেড়ে গেলে হাসপাতালে যেমন মিলবে না জায়গা, তেমনি নানাবিধ সংকটে মানুষের মৃত্যুহার বাড়বে কয়েকগুণ।

 

শহরের খাতুন ম্যনশনের রীগ ফ্যাশনের ব্যবসায়ী পরিতোষ দাশ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। কিন্ত মার্কেটে আগত ক্রেতা সাধারণের অনেকেই এ ক্ষেত্রে উদাসীন।

 

সাইফুর রহমান মার্কেটের তপু ফ্যাশনের ব্যবসায়ী শেখ সারোয়ার জাহান বলেন, লকডাউনে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি সীমাহীন।

 

দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন সব মিলিয়ে আমরা অসহায়। কিন্ত তারপরও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কেই আরো বেশি সচেতন হতে হবে কারণ প্রতিদিন দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে চলছে।

 

সিলেট বিভাগের সাবেক বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হরিপদ রায় বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোভিড সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার যে নির্দেশনা প্রদান করে তা সকলেই কঠোর ভাবে মেনে চলা উচিত। সাথে প্রশাসনের উচিত সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে স্বাস্থ্যবিধির প্রতিপালন করা। 

 

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশ দিয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

 

জনগণের সচেতনতা ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে সবাইকেই। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা বিক্রেতা সবাইকেই সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। 

 

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালেক বলেন, লকডাউনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে কিন্ত এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের সাথে।

 

কিন্ত সরকারি নির্দেশনা না মেনে যারা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করব। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

 

বিডি প্রভাত/সহন

নিউজটি শেয়ার করুন

খবর সম্পর্কিত ট্যাগ..

BD Provat বিডি প্রভাত মৌলভীবাজার
মন্তব্য দিন
We'll never share your email with anyone else.