বিস্তারিত

স্ত্রী হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক

আপডেট টাইম : 1 week ago
স্ত্রী হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর হাতিরঝিলে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় গত ৩ এপ্রিল ঝিলিক আলম (২৩) নামে এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

 

এ ঘটনায় ঝিলিককে হত্যার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেছেন তার মা তহমিনা হোসেন আসমা।

 

যদিও ঝিলিকের স্বামীর পরিবার দাবি করছে, ঝিলিক হাতিরঝিলে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। কিন্তু ঝিলিকের পরিবার বলছে, হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতেই সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয়েছে।

 

এদিকে ঝিলিকের মা তাহমিনা হোসেন আসমা বলছে, বিয়ের পর জানতে পারি ঝিলিকের স্বামী মাদকাসক্ত। স্বামীসহ তার পরিবার আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত।

 

তার দাবী, ২ এপ্রিল থেকে পরদিন ৩ এপ্রিল সকাল ৮টার মধ্যে যেকোনও সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঝিলিককে হত্যা করে হত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য মিথ্যা গাড়ি দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয়েছে।

 

মামলার আসামিরা হলেন- নিহত ঝিলিকের স্বামী সাকিব আলম মিশু, দেবর ফাহিম আলম, শাশুড়ি সায়িদা আলম, শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম এবং বাসার ম্যানেজার আশিশ।

 

পুলিশ বলছে, আমাদের কাছে বিষয়টি সন্দেহ হলে মিশুকে আটক করি। পরে গুলশান-২ নম্বর সড়কের ৩৬ নম্বর রোডের বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, চারজন ব্যক্তি ওই নারীকে বাসার সিড়ি থেকে চ্যাং দোলা করে বের করছেন।

 

পুলিশ আরও জানায়, বর্তমানে এই মামলায় সাকিব আলম মিশু তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন এবং ঝিলিকের শ্বশুর ও শাশুড়ি কারাগারে।

 

জানা গেছে, ২০১৮ সালের প্রথমদিকে সাকিব আলম মিশুর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় নিহত ঝিলিক আলমের (২৩)। পরে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় তারা। মিশু বাবা-মায়ের কাছে পছন্দের বিষয়টি জানালে তারা ঝিলিকের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে বিয়েতে অমত দেন।

 

কারণ, ঝিলিক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সাকিব আলম মিশুর পরিবার গুলশান-২ এর স্থায়ী বাসিন্দা। আর ঝিলিকের পরিবার মোহাম্মদপুরের তাজমহল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাই আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ায় সাকিবের পরিবার গরিব পরিবারের মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে মেনে নিতে পারেনি।

 

সাকিব তাকে ছাড়া অন্য মেয়েকে বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন তার পরিবারকে। একপর্যায়ে ছেলের জেদের কাছে হার মানেন তারা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের পর মিশুদের বাড়িতেই ওঠেন ঝিলিক। কয়েক মাস তারা ভালোই ছিলেন। ২০২০ সালের শুরুর দিক থেকে শুরু হয় অশান্তি।

 

ঝিলিকের মা আরও জানান, ২০১৯ সালের জুনে ঝিলিককে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। তিনি একাই তাজমহল রোডে বাবা-মায়ের বাসায় ওঠেন। কয়েকদিন পর মিশু যান সেখানে। প্রায় দেড় মাস থাকেন তাদের বাসায়। এরই মধ্যে বিভিন্ন সময় মিশুর মা তাকে ফোন করে বাসায় চলে আসতে বলতেন।

 

আগস্টের শুরুর দিকে মিশুকে জোর করে গুলশানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন খিলগাঁওয়ের একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয় তাকে। কয়েকদিন স্বামীর ফোনে সাড়া না পেয়ে ঝিলিক গুলশানে শ্বশুরবাড়িতে যান। কিন্তু শাশুড়ি তাকে বাসায় ঢুকতে দেননি। ফিরে যান বাবার বাসায়। কয়েক দিন পর আবার গুলশানে যান। সেদিনও বাসায় ঢুকতে দেয়া হয়নি।

 

এর আগে, নিহত ঝিলিকের দেবর ফাহিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঝিলিকের বাসাতেই মৃত্যু হয়েছে। তবে তার ভাই কেন দুর্ঘটনার কথা বলেছেন, তা তার জানা নেই।

 

ঘটনার দিন আসামি মিশু হাসপাতালে গিয়ে জানান, হাতিরঝিল আমবাগান এলাকায় রাস্তায় আইল্যান্ডের উপর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দিলে তিনি ডান হাতে সামান্য আঘাত পান এবং গাড়িতে থাকা তার স্ত্রী ঝিলিক আলম (২৩) গুরুতর আহত হন। 

 

তিনি স্ত্রীকে ঢামেক হাসপাতাল নিয়ে আসেন। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বেলা সোয়া ১১টায় ঝিলিককে মৃত ঘোষণা করেন।

 

বিডি প্রভাত/জেইচ

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য দিন
We'll never share your email with anyone else.

শিরোনাম