বিস্তারিত

বিনা দোষে তিন বছর কারাবাস, মুক্তি দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

আপডেট টাইম : 1 week ago
বিনা দোষে তিন বছর কারাবাস, মুক্তি দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমির পরিবর্তে জেল খাটা নিরপরাধ মিনুকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তিন বছর কারাভোগ করে অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন তিনি।

 

 

 

পাশাপাশি মূল আসামি কুলসুমকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কুলসুমের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে যারা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছেন সেই আইনজীবী ও তদবিরকারীদের তলব করেছেন আদালত।

 

আগামী ২৮ জুন হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যাখ্যাসহ জবাব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ভার্চুয়াল শুনানি শেষে আজ সোমবার বিনু আক্তারকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। বিনু আক্তার বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। উচ্চ আদালতের আদেশের কপি আসার পর তিনি মুক্তি পাবেন।

 

আদালতে মিনুর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

 

শুনানিতে জেলে থাকা নিরপরাধ মিনুর পুরো ঘটনা তুলে ধরে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, বিগত দুই বছরে আমাদের দেশে এমন ২৬টি ঘটনা ঘটেছে। একজনের নামে আরেকজন জেলে থাকে। আসল আসামি শনাক্তে অনেক পদ্ধতি আছে। এ বিষয়ে আমি আরও লিখিতভাবে আদালতকে জানাব।

 

বিনু আক্তারের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ২০০৬ সালে নগরের কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন কুলসুমি আক্তার সুমি নামে এক নারী।

 

পুলিশ সুমির পরিবর্তে বিনু আক্তার নামে অপর একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। মামলার রায়ে বিচারক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে বিনুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ভুল ব্যক্তিকে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়।

 

পরবর্তীতে বিনু আক্তার ন্যায়বিচার প্রাপ্তির আশায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করলে আমরা বিষয়টি চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ এবং চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রতিকার প্রার্থনা করি।

 

এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিনু আক্তারের সাক্ষ্য গ্রহণ করে বিষয়টি উচ্চ আদালতে রেফার করা হয়। গত দুদিন শুনানির পর আজ বিনু আক্তারকে মুক্তি দিয়ে আদেশ প্রদান করেন উচ্চ আদালত।

 

আদালত বলেন, আমরা মনে করি এভাবে যদি রিয়েল (আসল) কালপ্রিট (দোষী) অর্থের বিনিময়ে হোক, অথবা বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে নিজেকে বাঁচিয়ে অন্য নিরপরাধ লোককে জেলের মধ্যে আটক রাখে সেটা দুর্ভাগ্যজনক।

 

হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তারের হয়ে জেল খাটা মিনুর বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী শিশির মনির।

 

বিডি প্রভাত/জেইচ

নিউজটি শেয়ার করুন

খবর সম্পর্কিত ট্যাগ..

বিডি প্রভাত চট্টগ্রাম
মন্তব্য দিন
We'll never share your email with anyone else.

শিরোনাম