বিস্তারিত

জনসাধারণের ভরসা ও আস্থার মানুষ কামাল চেয়ারম্যান

আপডেট টাইম : 3 weeks ago
জনসাধারণের ভরসা ও আস্থার মানুষ কামাল চেয়ারম্যান

মাছুম আহম্মেদ, ফেনী প্রতিনিধি: একটি সংগ্রাম, একজন আপাময় জনসাধারণের ভরসার ও আস্থার মানুষ, তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা মানুষের প্রিয় নেতার নাম কামাল উদ্দিন মজুমদার।

 

পরশুরাম উপজেলার পৌরসভার আওতাধীন (সাবেক সদর ইউনিয়ন) অনন্তপুর গ্রামে ১৯৭১ সালের ২২ অক্টোবর (সার্টিফিকেট অনুযায়ী) মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

 

পিতা মরহুম সোনা মিয়া মজুমদার ও মাতা মরহুমা বদরের নেছার ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।শৈশব কৈশোরে দুরন্তপনা ছিলেন, এবং ভালো ফুটবল খেলতেন।

 

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা আওয়ামী পরিবারের বেড়ে উঠা সে সাথে পরিবারের সবাই আওয়ামীলীগের সমর্থক হওয়ার কারনেই ছোট বেলা থেকেই আওয়ামী রাজনীতির আদর্শ ধারন করে ছাত্র জীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ করেন।

 

রাজনৈতিক জীবনে রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধির সময়কালঃ ১৯৮৮ সালে পরশুরাম কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য। ১৯৯০ সালে পরশুরাম থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯২ সালে প্রথম পরশুরাম সদর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, প্রতিক চেয়ার। ১৯৯৪ সালে পরশুরাম থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত।

 

১৯৯৭ সালে দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত, প্রতিক চেয়ার। ১৯৯৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কতৃক শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত। ১৯৯৮ সালে প্রথম পরশুরাম থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত। ২০০১ সালে নবগঠিত পরশুরাম পৌরসভার প্রথম পৌর প্রশাসক মনোনীত। ২০০২ সালে পরশুরাম পৌরসভার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রথমবারের মত পরাজয় বরন, প্রতিক চাকা।

 

২০০৩ সালে পরশুরাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত দ্বিতীয় বারের মত। ২০০৯ সালে প্রথম পরশুরাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত, প্রতিক দেওয়াল ঘড়ি। ২০১২ সালে তৃতীয় বারের মত পরশুরাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত। ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বারের মত পরশুরাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত, প্রতিক আনারস।

 

২০১৯ সালের প্রথম বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে তৃতীয় বারের মতো পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

১৯৮৮ সালে পরশুরাম কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন, তখন দেশে স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে, সে আন্দোলনে অসামান্য অবদানের কারনে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের নজরে আসেন, তারি ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৪ মার্চ পরশুরাম থানা ছাত্রলীগের ইতিহাসে প্রথম জাকজমক পূর্ন সম্মেলনের মধ্য দিয়ে থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

 

এর পর স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে জেলে জান, পরশুরামের ছাত্রসমাজের তীব্র আন্দোলনের মুখে জামিনে মুক্ত হন।

 

মুক্তির পরে পরশুরাম ছাত্রজনতা তাকে সহ সকল মুক্তিপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ কে সংবর্ধিত করেন সে সংবর্ধনা সভায় প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন সফল ছাত্রনেতা বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা ওবায়দুল কাদের এমপি মহোদয়।

 

এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন এবং আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে অবস্হান নেন।

 

এর মধ্যে সার কেলেংকারী সহ সোনালি ব্যাংকে ঋণ বিতরনে অনিয়মের বিরুদ্ধে আবারো ছাত্র জনতাকে নিয়ে রাজপথে সাধারণ মানুষের পক্ষে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেন।

 

এরপর এলো ইউপি নির্বাচন, ২৫ জানুয়ারি ১৯৯২ সালে ইউপি নির্বাচনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়ার নির্বাচনি এলাকা হওয়া সত্তেও এলাকার মানুষ তাকে বিপুল ভোটে পরশুরাম সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।

 

পরপর দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান সহ তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের থানা সাধারণ সম্পাদক সহ আরো জাদরেল প্রার্থী কে পরাজিত করে পরশুরাম বাসীকে তাক লাগিয়ে দেন।

 

তারপর সব ইতিহাস পরশুরামের মানুষের প্রিয় নেতা হয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন কামাল চেয়ারম্যান।

 

জনগণের খাদেম হিসেবে উজাড় করে দেন নিজেকে, তারি ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সালে পরশুরাম থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে তাকে থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন এবং দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন।

 

১৯৯৭ সালে আবারো ইউপি নির্বাচনে দলীয় মননোয়ন পান এবারো আগের প্রার্থীরা সহ নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী কে পরাজিত করে ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ সালে দ্বিতীয় বারের মত ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

 

এর মধ্যেই ১৯৯৮ সালে ফেনী জেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে গোল্ড মেডেল পান এবং বিদেশ সফর করেন।

 

১৯৯৮ সালে পরশুরাম থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে প্রথমবারের মত থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

 

প্রলয়ংকরী বন্যায় যখন দেশের মানুষ পানি বন্দী সে থেকে পরশুরামের মানুষও বাদ যায় নি, পানি বন্দী পরশুরাম বাসীকে দেখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পরশুরামে আসেন, পরশুরামের বিশাল জনসভায় পরশুরাম বাসীর দাবির প্রেক্ষিতে পরশুরাম সদর ইউনিয়ন কে পৌরসভা ঘোষণা করেন। ২৫ মার্চ ২০০১ সালে পরশুরাম পৌরসভার প্রথম পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন।

 

এরপর ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবারো আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে গেলে নেমে আসে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন, সে সময় সাধারণ নেতাকর্মী দের কে সাথে নিয়ে ধৈর্য এবং সাহসিকতার সাথে এসব হামলা মামলা নির্যাতন মোকাবিলা করেন।

 

১২ ফেব্রুয়ারি ২০০২ সালে প্রথম পৌরসভা নির্বাচনে ভোট ছিনতাই করে তাকে প্রথমবারের মত পরাজিত করা হয়। তারপরও তিনি আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিজয়ী চেয়ারম্যান এর হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করে পরশুরামে নজীর স্হাপন করেন।

 

আবারো দলকে তৃণমূল পর্যায়ে ঢেলে সাজানোর উদ্দোগ নেন দলীয় সভানেত্রী। তারই ধারাবাহিকতায় ১২ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে পরশুরাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়, বাকি ইতিহাস পরশুরাম বাসী আজীবন মনে রাখবে, তৎকালীন আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুল জলীল সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কে পরশুরাম পাইলট হাইস্কুল মাঠে নির্ধারিত সম্মেলন করতে না দিয়ে ১৪৪ ধারা জারী করেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল।

 

পরবর্তীতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রীর একান্ত সহকারী পরশুরামের উন্নয়নের রুপকার শ্রদ্ধেয় আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিম সাহেবের বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মত উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

 

এরপর সাধারণ নেতাকর্মীদের কে নিয়ে তৃণমূলে সংগঠন কে শক্তিশালী করতে শত নির্যাতন ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন এবং দল আবারো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়।

 

২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভোটে দলীয় মননোয়ন পান এবং দলের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং অন্যান্য প্রার্থীদের কে পরাজিত করে ২২ জানুয়ারি ২০০৯ সালে প্রথমবারের মত উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

 

আবারো ২২ ডিসেম্বর ২০১২ সালে তৃতীয় বারের মত দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং বিএনপি জামাতের সন্ত্রাস বিরুদ্ধে রাজপথে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, তারি ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে আবারো উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মননোয়ন পান এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

 

এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধির বণ্যার্ঢ জীবনে সর্ব প্রথম মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ।

 

তারপরি পরশুরামের আপামর জনসাধারণ ও উনার রাজনৈতিক গুরু শ্রদ্ধেয় মরহুম আমিনুল করিম খোকা মিয়া এবং যিনি উনাকে সবসময় সব বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, সাহস দিয়ে আগলে রেখেছেন, ছোট ভাইয়ের মত স্নেহ করেন শাসন করেন, যার অবদানে আজকে উনি জনগণের কামাল চেয়ারম্যান, উনার রাজনৈতিক অভিভাবক ফেনীর মানুষের হৃদয়ের নেতা শ্রদ্ধেয় আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম সাহেব, উনার রাজনৈতিক সহকর্মী, সহযোদ্ধা, অগনিত কর্মী সমর্থক, বন্ধু বান্ধব, সাংবাদিক, সহ সকলের অবদান স্বরনীয় এবং তাদের সকলের প্রতি চির কৃতজ্ঞ আমরা।

 

এসব বলার একটাই কারন তার মত এত বণ্যার্ঢ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তৃণমূল থেকে উঠে আসা কোন রাজনৈতিক কর্মীর আছে কিনা আমার জানা নাই। উনি এত দীর্ঘ সময় রাজনীতি করতে গিয়ে ঘাত প্রতিঘাত সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই এগিয়ে গেছেন।

 

নিজের পৈত্তিক সম্পদ বিক্রি করে দলের দুঃসময়ে দলকে তৃণমূলে সুসংগঠিত করেছেন তাই দল আজ মজবুত ভিত্তির উপর দাড়িয়ে আছে।

 

এখন কথা হচ্ছে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো সফল হয়েছেন আবার কখনো ব্যার্থ হয়েছেন, কখনো মানুষের কাছে নন্দিত হয়েছেন আবার কখনো নিন্দিত হয়েছেন, ভালো খারাপ মিলিয়ে তার এ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। তিনিও একজন মানুষ তারও ভুল থাকতে পারে আর ভুল থাকাটাই স্বাবাবিক। উনারও মান অভিমান থাকতে পারে, আর থাকাটাই স্বাবাবিক!!!

 

উচ্চ আদর্শিক নেতৃত্বে যার অবদান স্বরণীয়, তৃনমুল থেকে উঠে আসা মুজিবীয় সংগঠক, জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সৈনিক।

 

আওয়ামীলীগ পরিবারের এক একজন নেতা বহু কষ্টে তৈরী হয় । এই রকম নেতা দলের এবং সাধারণ জনগণের জন্য এসেট।

 

উনার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে সফলতা ব্যার্থতার বিচার করবেন পরশুরামের আপামর জনসাধারণ।

 

বিডি প্রভাত/জেইচ

নিউজটি শেয়ার করুন

খবর সম্পর্কিত ট্যাগ..

ফেনী বিডি প্রভাত
মন্তব্য দিন
We'll never share your email with anyone else.

শিরোনাম