বিস্তারিত

আমার মানিক আইল লাশ হইয়া, অহন এই নতুন ঘরে কে থাকব

আপডেট টাইম : 1 month ago
আমার মানিক আইল লাশ হইয়া, অহন এই নতুন ঘরে কে থাকব

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভাইবোনের জমানো টাকা দিয়ে বাড়িতে নতুন টিনের ঘর বানাইছি। ঈদে ওরা বাড়ি আসলে মিলাদ দিয়ে ঘরে ওঠার কথা আছিল। আমার বাবা ঘাটে আইসা ফোন করছিল। তখন বলছিল দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভাইবোনে বাড়ি পৌঁছাইব। আমার মানিক আইল লাশ হইয়া, অহন এই নতুন ঘরে কে থাকব?

 

এই বিলাপ নাছিমা আক্তারের। তাঁর বাড়ি নড়িয়া উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গ্রামে। আজ বুধবার ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফেরিতে পদদলিত হয়ে মারা গেছে তাঁর ছেলে আনসার আলী (১৫)।

 

বুধবার (১২ মে) ভোরে ঢাকা মীরহাজিবাগ থেকে বোন নয়ন তারা ও সহকর্মী সবুজকে নিয়ে শরীয়তপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আনসার। সকাল আটটার দিকে শিমলিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে ওঠে।

 

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদারীপুর জেলার শিবচরের বাংলাবাজার ফেরি থেকে নামতে গিয়ে যাত্রীর চাপাচাপি পায়ের পাড়াতেই আনসার মিয়ার মৃত্যু হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার সেজো বোন নয়ন তারা (১৭)। নয়ন তারাও অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পরেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে।

 

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গ্রামের গিয়াস উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার মীরহাজির বাগ এলাকায় থাকতেন। তিনি, তাঁর স্ত্রী নাছিমা আক্তার, মেয়ে নয়নতারা ও ছেলে আনছার আলী বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন।

 

করোনার কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী ছয় মাস আগে গ্রামে ফিরে আসেন। আর ছেলে আনসার আলী একটি স্টিলের ফার্নিচারসামগ্রী তৈরির কারখানায় ও মেয়ে নয়নতারা পর্দা প্রস্তুতের কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতে থাকেন। ঈদের কারণে কারখানা বন্ধ দেওয়ার পর বুধবার দুই ভাইবোন একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন।

 

বুধবার সকাল আটটায় দুই ভাইবোন শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছান। সকাল ১০টার দিকে শাহ্ পরান ফেরিটি পন্টুনে থামলে তাঁরা একে অপরের হাত ধরে ফেরিতে উঠতে যান। প্রচণ্ড ভিড়ে তাঁরা দুজন দুদিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

 

তখন আনছার আলী ছিটকে ফেরির মেঝেতে পড়ে যায়। পদদলিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ততক্ষণে ফেরি বাংলাবাজার ঘাটের দিকে চলতে শুরু করে। ফেরি বাংলাবাজার ঘাটে পৌঁছালে ভিড় সরিয়ে ভাইকে খুঁজতে থাকেন নয়নতারা। একসময় ফেরির মেঝেতে লাশ দেখে ভাইকে শনাক্ত করেন।

 

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন জানান, ছেলেটি নামার সময় ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। উদ্ধার করে ছেলেটির লাশ তার বাড়িতে পাঠিয়েছি।

 

শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনী শংকর কর বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। আমি পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছি।

 

বিডি প্রভাত/আরএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন

খবর সম্পর্কিত ট্যাগ..

মাদারীপুর
মন্তব্য দিন
We'll never share your email with anyone else.

শিরোনাম