ভাল থাকো হামার কুড়িগ্রামবাসী- বিদায়ী পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম

ভাল থাকো হামার কুড়িগ্রামবাসী- বিদায়ী পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ ভাল থাকো হামার কুড়িগ্রামবাসী। সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম’র ফেসবুক স্টাটাস। কুড়িগ্রামকে নিয়ে তার ভাবনা সত্যিই প্রশংসনীয়।নিজস্ব উদ্যোগে করোনা, বন্যা ও শীতকালীন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে থেকে দিয়েছেন নানা সহযোগীতা। তার এমন উদ্যোগে কুড়িগ্রামবাসীর মনেপ্রাণে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পুলিশ সুপারের ফেসবুক স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

এই লেখাটা যখন আপনারা পড়ছেন তখন আমি আমার প্রিয় একটি রাস্তা রাজারহাট লালমনিরহাট রোডে চায়নাবাজার ক্রস করে কুড়িগ্রামের সীমানা ত্যাগ করেছি, আজকেই অফিসিয়ালি আমি কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের দায়িত্বভার অর্পন করেছি।

এই শীতে কেমন আছেন সবাই? জানি অনেকেই ভাল নেই প্রকৃতির সাথে লড়াই করে, গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতা তাই বলে।বন্যা, শীত আর এ বছরের করোনার সাথে সারা বছর যুদ্ধ করেও  আপনাদের সরল মুখের হাসিটাই মন ভরিয়ে দেয়। দেড় বছর আগে এসেছিলাম, আমি পদ্মা পাড়ের মানুষ ধরলার পারে; ব্রক্ষ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমর, সোনাভরি, সংকোষ, গদাধর নদীর বুকে ঘুরে ঘুরে দেখেছি চরের জীবন, ১১ টি থানার আনাচে কানাচে ছুটেছি ,বিট পুলিশিং এর সুবাদে প্রতিটি এলাকার নাম যেন মুখস্থ হয়ে গেছে। কাঠালবাড়ী, হলোখানা, ভোগডাঙ্গা, ঘোগাদহ, বেলগাছা, মোগলবাসা, পাঁচগাছি, যাত্রাপুর, পাথরডুবি, শিলখুড়ি, তিলাই, পাইকেরছড়া, ভূরুঙ্গামারী, জয়মনিরহাট, আন্ধারীঝাড়, বলদিয়া, বঙ্গসোনাহাট, নাগেশ্বরী, রামখানা, বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, সন্তোষপুর, নেওয়াশী, হাসনাবাদ, ভিতরবন্দ, কালীগঞ্জ, নুনখাওয়া, নারায়ণপুর, কেদার, কচাকাঁটা, ফুলবাড়ী, শিমুলবাড়ী, নাওডাঙা, ভাঙ্গামোড়, কাশিপুর, বড়ভিটা, রাজারহাট, চাকিরপশার, বিদ্যানন্দ, উমরমজিদ, নজিমখান, উলিপুর, গুনাইগাছ, দলদলিয়া, দুর্গাপুর, তবকপুর, বুড়াবুড়ি, পান্ডুল, ধামশ্রেণী, ধরনীবাড়ী, থেতরাই, হাতিয়া, বজরা, বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, চিলমারী, থানাহাট, রাণীগঞ্জ, রমনা, অষ্টমীর চর, নয়ারহাট, রৌমারী, বন্দবেড়, শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা, যাদুরচর, রাজিবপুর, কোদালকাটি, মোহনগঞ্জে ছুটে গেছি কখনও মাদক বিরোধী সমাবেশে, কখনও ধর্ষনের শিকার হওয়া কোন ভিকটিমের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য জানতে, কখনও রহস্যময় খুনের কুলকিনারা করতে; পাশাপাশি কখনও শীতের সময়  কম্বল বা বন্যার্তদের একটু খাবার পৌছে  দিতে,  দেড় বছরে একবারও মনে হয়নি আমি আপনাদের জেলার কেউ নই; সরকারী সব মিটিংয়ে বলেছি আমার, আমাদের কুড়িগ্রাম; কত সহজ সরল আপনারা , এসপি অফিসে প্রবেশ করতে পায়ের জুতা নিয়ে আসতে দ্বিধাবোধ করতে দেখেছি অনেককে, সামনে বসতে ইতস্তত করেছেন, এজন্যই আমার সহকর্মীদের বারবার বলেছি এই মানুষগুলোর উপকার করা মানে নিজের বেহেশত নিশ্চিত করা । কুড়িগ্রামে আসার আগে ফেসবুকে বলেছিলাম অসহায় ভিআইপি এলকার দামি গাড়ী চড়া মানুষ  নয়, খালি পায়ে আসা মানুষের সেবা করতে চাই , গত দেড় বছর তাই চেষ্টা করেছি , ব্যক্তিগতভাবে দেখা না করতে পারলে ফোনে কল রিসিভ করে আপনাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি, কখনও ব্যস্ত থাকায় বা অনেকের কল ধরতে পারিনি , সারাদিনের ব্যস্ততায় কল ব্যাক করার কথাও মনে থাকেনি, বিষয়টা অনুধাবন করবেন নিশ্চয়ই।

বর্তমান আইজিপি স্যারের নেতৃত্বে পুলিশের যে পরিবর্তন সুচিত হয়েছে, স্যারের ঐকান্তিক চেষ্টায় যে জনবান্ধব পুলিশিং গড়ে উঠেছে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চেষ্টা করেছি আমার টিমমেটদের নিয়ে ; স্যার প্রায়শই বলেন একজন এসপি বা ওসি হবেন হ্যামিলিওনের বাশিওয়ালা  যার ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে তার পিছু পিছু চলবে সবাই, গত এক বছরে আপনাদের সাথে চাকরীসূত্রে এই জেলায় অবস্ব্যথানকালে  আমিও তাই ই চেয়েছি।কতটুকু পেরেছি তার বিচার করবেন আপনারা।

গত দেড় বছরে ফেসবুকের মেসেনজারে অনেকের সাথে কথা হয়েছে, অনেকে বিভিন্ন সমস্যায় নক করেছেন, সকলের সমাধান দিতে পারিনি, চেষ্টা করেছি, আপনাদের ভালবেসে আপনাদেরই একজন হতে। চলে যাবার সময় হল, নতুন কর্মস্থল পাবনা জেলায়।মান্যবার আইজিপি স্যারের  প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা আমাকে নতুন আরেকটি দায়িত্বপূর্ণ পদে পদায়িত করায়।গত দেড় বছরে আমাকে সকল প্রকার সহযোাগিতার করার জন্য কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা জজ, সিভিল সার্জনসহ অন্য সকল দপ্তরের প্রধানগন, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন পেশাজীবি, মিডিয়াকর্মী ও ফেসবুকে যারা ত দিয়েছেন, আমার কাজে উৎসাহ জুগিয়েছেন তাদের  সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। স্বল্পসময়ের চাকরীজীবনের এই স্মৃতি আমার মনে থাকবে আজীবন।

মনে রেখ কেবল একজন ছিল ভালবাসত শুধুই তোমাদের।

বিডি প্রভাত/আরএইচ

Spread the love