হনুমানের উৎপাতে অতিষ্ঠ সান্তাহার পৌরবাসী

হনুমানের উৎপাতে অতিষ্ঠ সান্তাহার পৌরবাসী

আহসান হাবীব মির্জা, আদমদীঘি: বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে দলছুট এক হনুমান কিছু বুঝে ওঠার আগেই হুট করেই লাফিয়ে উঠছে পথচারির ঘাড়ে, দুই হাতে ঠাসঠাস করে মুখমন্ডলে চড়থাপ্পর মেরে ভোঁ-দৌড়। একই ভাবে চড়াও হচ্ছে চলন্ত মোটরবাইকে।

মটরসাইকেল চালক কিছু বোঝার আগেই হনুমানের লাথিতে মটরসাইকেলসহ রাস্তায় ছিটকে পড়ছেন। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মুহুর্তে চম্পট দিচ্ছে হনুমানটি। রাস্তা পাশের খাবারের দোকান থেকে ছোঁ মেরে খাবার নিয়ে নিমিশে উধাও। আবার স্ট্যান্ড করা মোটরবাইক, ভ্যান-রিক্সায় চেপে বসছে। থাকছে দীর্ঘ সময় ধরে। তাড়াতে গেলেই ঘটাচ্ছে নানা বিপত্তি।

বেশ কয়দিন ধরেই এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে দলছুট একটি হনুমানটি। এই প্রাণীটিকে নিয়ে ৪ দিন ধরে এমন হুলস্থুল কান্ড চলছে সান্তাহার জংশন ও পৌর শহরের সর্বত্র। দলছুট হয়ে লোকালয়ে এসে সে যেমন চরম বিপাকে পড়েছে তেমনি বিরম্বনায় পড়েছেন পৌরবাসী।

জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হনুমানটি নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছুটে বেড়ানোর পর বুধবার এসেছে সান্তাহার পৌর শহরে। বর্তমানে হনুমানটি সান্তাহার জংশন স্টেশনসহ শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছে।

তার পছন্দের খাবারের সন্ধানে ছুটছে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায়। কিছু মানুষ তার দিকে খাবার ছুড়ে দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খাবারগুলো তার পছন্দমত না হওয়ায় গ্রহন করছে না।

হনুমানটির খাবারের পাশাপশি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে স্বচক্ষে দেখা মানুষের অসম্ভব ভীড়। যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই ভীড় জমাচ্ছে শত শত উৎসুক মানুষ। এসব মানুষদের মধ্যে কেউ তার দিকে ছুড়ছে ঢিল, আবার কিশোরদের মধ্যে কেউ করছে লাঠিপেটা। বাস্তব অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে হনুমানটিকে রক্ষা বা উদ্ধার করার কেউ নেই।

শনিবার দুপুরে এটিকে দেখা যায় সান্তাহার স্টেশন রোডে পথচারি, মোটরবাইক চালক এবং খাবারের দোকানগুলোতে অত্যাচার করতে। অনেক পশু প্রেমি মানুষ হনুমানটি রক্ষা করার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের অনুরোধ করেছেন। তাদের আশঙ্কা হনুমানটি দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে না গেলে না খেয়ে ও মানুষের অত্যাচারে নিশ্চিত এটি মারা যাবে।

গণমাধ্যম কর্মীরা হনুমানটিকে উদ্ধারের বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রাবণী রায়ের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে  তিনি বলেন, হনুমানটিকে উদ্ধারের বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত বন বিভাগের কাউকে দেখা যায়নি। অনেকে ৯৯৯ ফোন দিয়েও কোন কাজ হয়নি।

আদমদীঘি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, বিষয়টি ইউএনও মহোদয় তাঁকে জানিয়েছেন। কিন্তু হনুমানটি ধড়ার কোন সরঞ্জাম তাদের কাছে না থাকায় এটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছেনা। বিষয়টি ঢাকায় প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

বিডি প্রভাত/জেইচ

Spread the love