স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: গ্যাং গ্রুপের নেতা দিহান

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: গ্যাং গ্রুপের নেতা দিহান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কলাবাগানে ও লেভেলের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন ফারদিন ইফতেখার দিহান (২০)

শুক্রবার দুপুরে কলাবাগান থানা পুলিশ দিহানকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালতে হাজির করে দিহানকে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য ১ ঘণ্টার বেশি সময় দেওয়া হয়। পরে দিহান আদালতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

ধর্ষণের সঙ্গে দিহান একাই জড়িত। বৃহস্পতিবার বাসায় একা থাকতে পেরে দিহান ওই শিক্ষার্থীকে ফোন করে ডেকে নেয়। বেলা ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী কলাবাগানের লেক সার্কাসের ৬৩/৪, পান্থনিবাস-২ অ্যাপার্টমেন্টের দোতালার ডি-২ ফ্ল্যাটে আসে।ফ্ল্যাটের মালিক দিহানের বাবা আব্দুর রউফ সরকার।

তিনি ২০১২ সালে জেলা রেজিস্ট্রার পদ থেকে অবসরে যান। করোনার মধ্যে আব্দুর রউফ সরকার রাজশাহীর দুর্গাপুরে তার বড় ছেলের বাড়িতে চলে যান। দুর্গাপুরে আব্দুর রউফের মাছের খামার রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুবলীগ নেতা সম্রাটের শারীরিক অবস্থার অবনতি, ফের সিসিইউতে

অপরদিকে, দিহানের মেজ ভাই নারায়ণগঞ্জে যমুনা ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা। তিনিও বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ চলে যান। দিহানের মা সানজিদা সরকার তার অসুস্থ বাবাকে দেখতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

বাসায় কেউ ছিল না বলে দিহান নিজেই ওই শিক্ষার্থীকে ফোন করে গ্রুপ স্টাডির কথা বলে বাসায় আসতে বলে। বেলা ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী তাদের বাসায় এলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন হয়। এক পর্যায়ে দুহান ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে। এরপরে ওই শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, দিহান ভয় পেয়ে যায়। প্রায় ২০/২৫ মিনিট ধরে তারা রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

তখন দিহান বাসার নিচে গিয়ে গাড়ি পার্কিং থেকে নিজের গাড়িটি বের করে। দোতালা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ধরাধরি করে নামিয়ে এনে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় মডার্ন আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে চিকিৎসকরা জানান ওই শিক্ষার্থী আগেই মারা গেছে। তখন সে তার বন্ধু হুমায়িদ মিল্কি, আলভী মাহবুবসহ তিনজনকে ফোন করে হাসপাতালে আসতে বলে। এরপরই পুলিশ তাকে আটক করে কলাবাগান থানায় নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: টঙ্গীতে বাবার ওপর অভিমান করে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা 

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরো জানিয়েছে, সে ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে ইডেক্সেল-এ লেভেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। যে গাড়িটিতে করে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে- সেটি তার বাবা ২০১৯ সালে তার বাবা তাকে কিনে দিয়েছে। এর আগে তার বাবা তাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছে।

টয়োটা এক্সিও মডেলের গাড়িটি সে নিজেই চালাত। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। নিহত ওই শিক্ষার্থী ছাড়াও তার সঙ্গে আরো এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী যে মারা যাবে-সেটি সে কল্পনা করতে পারেনি। তবে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার পরিকল্পনা থেকে বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষার্থীর কাছে সে ফোন দেয় বাসায় আসার জন্য। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত দিহানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কলাবাগান লেক সার্কাস এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ছোট বেলা থেকেই দিহান বখাটে ছিল। ১৩/১৪ বছর বয়স থেকেই সে এলাকায় মোটরবাইকার হিসেবে পরিচিতি পায়। এলাকায় জোরে হর্ন বাজিয়ে সে মোটরসাইকেল চালাত। লেক সার্কাস এলাকায় দিহান একটি গ্যাং গ্রুপ পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাবাগানের লেকসাকার্সের ফ্লাট থেকে অচেতন অবস্থায় মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ও লেভেলের শিক্ষার্থীকে মডার্ন আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

বিডি প্রভাত/জেইচ