সারাদেশে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নতুন বই

সারাদেশে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নতুন বই

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনায় স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে স্কুলে স্কুলে শিশু শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে। আজ (১ জানুয়ারি) শুক্রবার নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া শুরু হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলো বই বিতরণের প্রস্তুতি নিয়েছে। এ বছর প্রায় ৩৫ কোটি নতুন বই ছাপিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতি বছর গণভবনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই উৎসব উদ্বোধন করা হলেও এবার করোনার কারণে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। আজ থেকে ১২ দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে।

মাধ্যমিকের প্রতিটি শ্রেণির বই বিতরণের জন্য তিন দিন করে সময় দেওয়া হবে। ষষ্ঠ থেকে নবম- এ চারটি শ্রেণিতে সপ্তাহে তিন দিন করে মোট ১২ দিনে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করতে হবে। প্রথম তিন দিন বিতরণ করা হবে নবম শ্রেণির বই। এর পর ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি, সপ্তম শ্রেণি ও ষষ্ঠ শ্রেণির বই দেওয়া হবে। আর প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধির কথা চিন্তা করে অভিভাবকদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে। তবে শিশুরা এলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।

প্রতি বছর গণভবনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই উৎসব উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

জানা যায়, করোনার মধ্যেও যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কাজ শেষ করতে পারার মূল কারণ ছিল সিন্ডিকেটের বিলুপ্তি। গত বছর অগ্রণী প্রিন্টার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে প্রচলিত সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে অনেক কম দামে কাজ করে। একই প্রতিষ্ঠান এবার প্রথম থেকে নবম শ্রেণির পাঠ্যবই মুদ্রণে একই নীতি নেয়। সিন্ডিকেটে না ঢুকে বাজারে কাগজের দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মুদ্রার দর হাঁকে তারা। এতে বাধ্য হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও মুদ্রণে কম দর দিতে বাধ্য হয়। এতে সরকারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে এ বছর।

২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চার কোটি ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ২২৬ শিক্ষার্থীকে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৪১২টি বিনামূল্যের বই দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে দুই কোটি ৩০ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৩ জনকে ১০ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৫টি এবং ইবতেদায়ি, দাখিল, কারিগরি ও মাধ্যমিক স্তরে এক কোটি ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫৩ শিক্ষার্থীকে ২৪ কোটি ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৭টি বই দেওয়া হচ্ছে।

বিডি প্রভাত/আরএইচ

Spread the love