সরকারি কালভার্ট ও রাস্তার ইট খুলে নিলো আওয়ামীলীগ নেতা

সরকারি কালভার্ট ও রাস্তার ইট খুলে নিলো আওয়ামীলীগ নেতা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে এক শিক্ষক ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা সরকারি রাস্তার এবং কালভার্টের ইট খুলে নিয়ে গেছে। এতে করে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এই বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গ্রামের মানুষ। 

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কুটির গ্রামের ফকিরের হাট বাজারের তেতুলকান্দি জামে মসজিদের পাশে সরকারি রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ নিয়মিত চলাচল করে থাকে। রাস্তার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংস্কার করা হয়ে থাকে। গত ২০১৬-২০১৭অর্থ বছরে এলজিএসপি-৩ এর আওতায় এক লাখ ২০হাজার ৭০টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়।

এছাড়াও উপজেলা বিআরডিবি বিভাগ হতে রাস্তাটি হেরিং(ইট দ্বারা)করে দেয়া হয়। কিন্তু চলতি বছরের গত ২৯জুন কুটিরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আয়নাল হক মাষ্টার রাস্তার ইট তুলে নিয়ে যান। এসময় কালভার্টের অংশ ভেঙ্গে ফেলেন। এতে করে ওই এলাকার পথচারীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে দিনে দুপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ইট খুলে নিয়ে যাওয়া এবং কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্থ করায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

লিখিত অভিযোগকারী মাসুদ রানা বলেন,আয়নাল মাস্টার দলীয় প্রভাব দেখিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সে ক্ষমতা প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করাসহ মামলা-মোকদ্দমার হুমকি দিয়ে থাকেন। ফলে স্থানীয় অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। 

এ বিষয়ে রাণীগঞ্জ ইউয়িনয়ন আওয়ামিলীগের সভাপতি ও কুটিরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়নাল হক বলেন,কালভার্টটি অকেজো হয়ে পরে থাকায় আমি সেটি ভেঙ্গেছি। কিছু ইটও সরানো কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে সরকারি চাকুরিতে থাকা কালিন সময়ে দলীয় পদে থাকার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: আবু সালেহ বলেন, প্রাইমারীর শিক্ষকরা দলীয় কোন পদে থাকতে পারেন না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। 

উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি রফিকুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। তারপরও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাবুবুর রহমান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।