সত্য বলে যাব, মৃত্যুর পরোয়া করি না: কাদের মির্জা

সত্য বলে যাব, মৃত্যুর পরোয়া করি না: কাদের মির্জা

আবু সাঈদ শাকিল, নোয়াখালি প্রতিনিধি: সম্প্রতি নির্বাচন, রাজনীতি, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, আওয়ামী লীগের এমপি ও নেতাদের নিয়ে একাধিক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সহোদর নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। এরই মধ্যে জনসমক্ষে দেয়া তার এ ‘সত্য বচনের’ ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল হয়েছে। অনেকে হয়েছেন বিরাগভাজন, কেউবা হয়েছেন খুশি।

তবে এ সত্য বলার পরিণতি হিসেবে তাকে দেয়া হচ্ছে অব্যাহত হুমকি। তিনি এ হুমকিকে তোয়াক্কা না করেই নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জনগণকে সাক্ষী রেখে বলেছেন, যত দিন বেঁচে থাকব তত দিন সাহস নিয়ে সত্য কথা বলে যাব। এতে মৃত্যু হলেও তাতে পরোয়ানা করি না।

আরও পড়ুন: আপিল বিভাগের তালিকা থেকে বাদ পড়লো আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা

মূলত ৩১ ডিসেম্বর বসুরহাট পৌরভবন চত্বরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে আবদুল কাদের মির্জা বলেন। বৃহত্তর নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের কিছু কিছু চামচা নেতা আছেন, যারা বলেন অমুক নেতা, তমুক নেতার নেতৃত্বে বিএনপির দুর্গ ভেঙেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীতে তিন-চারটি আসন ছাড়া বাকি আসনে আমাদের এমপিরা পালানোর জন্য দরজা খুঁজে পাবে না।

এটিই হলো সত্য কথা। সত্য কথা বলতে হবে। আমি সাহস করে সত্য কথা বলছি। এ সময় কাদের মির্জা নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় দলীয় কিছু নেতাকে ইঙ্গিত করে বলেছেন। নোয়াখালীর মানুষজন বলে, শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এটি সত্য। কিন্তু আপনাদের (নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ নেতা) জনপ্রিয়তা বাড়েনি।

আপনারা প্রতিদিন ভোট কমান। টাকা দিয়ে বড় জনসভা করা, মিছিল করা কোনো ব্যাপার নয়। টাকা দিলে, গাড়ি দিলে আমিও অনেক লোক জড়ো করতে পারব। না হয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেব।

নোয়াখালীর রাজনীতি অতি কষ্টের। জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি পদে ওয়ান ইলেভেনের সেনাপ্রধান মইন উ আহম্মেদের ছোট ভাই মিনহাজ আহম্মেদ জাবেদ ও হাওয়া ভবনের লোক আতাউর রহমান মানিক ভূঁইয়ার নাম রয়েছে। তাদের মতো লোক কীভাবে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পায় এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

কাদের মির্জা বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীতে আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের, মওদুদ সাহেব (বিএনপির মওদুদ আহমদ), আবু নাছের সাহেব (জামায়াতের) এই তিনজন ছাড়া তাদের সমমর্যাদার কেউ নেই। কোনো নেতা সৃষ্টি হয়নি।

এখন তো ওবায়দুল কাদের মওদুদ আহমদের নাম বিক্রি করি। তারা তিনজন তো অসুস্থ তারা মারা গেলে কার নাম বিক্রি করবেন কেউ নেই।

আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কারো নাম উল্লেখ না করে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেন, তারা হচ্ছেন নেতা। টেন্ডারবাজি করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট যারা করেন, তারা হচ্ছেন নেতা। পুলিশে, প্রাথমিক শিক্ষকে চাকরি দিয়ে যারা পাঁচ লাখ টাকা নেন, তারা হচ্ছেন নেতা। গরিব পিয়নের চাকরি দিয়ে তিন লাখ টাকা যারা নেন, তারা হচ্ছেন নেতা। চরের জায়গা দখল করে তারা হচ্ছেন নেতা। আবার তাদের মনোনয়ন দেয়া হয়।

হঠাৎ কেন তিনি এ রকম বক্তব্য দিলেন? জানতে চাইলে কাদের মির্জা জানান, সম্প্রতি তিনি অসুস্থতার কারণে আমেরিকায় গিয়ে চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন তার পেটের ভেতর দুটি টিউমার আছে। যেকোনো সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তখন তিনি সে দেশে শুয়ে শুয়ে নিজ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবলেন।

সর্বত্র অরাজকতা ও আর নানা অনিয়ম-দুর্নীতি তাকে মানসিকভাবে পীড়া দিল। আর আমেরিকা থেকে দেশে আসার পর তিনি বিমানবন্দরে বসে চিন্তা করলেন যত দিন বেঁচে থাকবেন, সব সময় সত্য কথা বলে যাবেন।

আবদুল কাদের মির্জা আরো বলেন, তার দেয়া বক্তব্যগুলো সঠিকভাবে কেউ উপস্থাপন করেনি। ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন ভোটের অধিকার ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। আমরা স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি ভাতের ও ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য।

আজ শেখ হাসিনা সরকার ভাতের অধিকার দিয়েছে কিন্তু ভোটের অধিকার আমরা এখনো পায়নি।বরং এ দেশে হ্যাঁ ও না করে ভোটের অধিকার হরণ করেছেন জিয়াউর রহমান। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা এ দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করেছেন।

আরও পড়ুন: স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আগামীতে মনোনয়ন দেওয়া হবে না: কদের

কাদের মির্জা আবারও বলেন, কিছু চামচা বলে ওমুক নেতার নেতৃত্বে নোয়াখালীতে বিএনপির দুর্গ ভাঙা হয়েছে। কিন্তু কতটুকু ভাঙা হয়েছে আমি সে বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেছি, এখনো তিন থেকে চারটি আসন ছাড়া বাকিগুলোতে যারা দাঁড়াবে, ফেয়ার (নিরপেক্ষ) ভোট হলে তারা পালানোর জন্য দরজা খুঁজে পাবে না। তাহলে কিসের বিএনপির দুর্গ ভাঙা হয়েছে। বিএনপির দুর্গ ভাঙলে শেখ হাসিনা ভেঙেছে। কারণ সবখানে সবাই বলে শেখ হাসিনা একলা কী করবে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে ওবায়দুল কাদেরের জনপ্রিয়তা বেশি; কারণ তিনি যে উন্নয়ন করেছেন মন্ত্রী না হলে তা করতে পারতেন না। এত এত উন্নয়ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মক্তব, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মন্দির। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে ওবায়দুল কাদেরের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তার নীতি-নৈতিকতার কারণে এ আসনে তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

আবদুল কাদের মির্জা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, যারা প্রকাশ্য দিবালোকে একজন উপজেলা চেয়ারম্যানকে (ফেনীর ফুলগাজীর একরামুলক হক) প্রথমে গুলি করে পরে গাড়ির ভেতরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলল। তারা নাকি নেতা? এগুলো বলাই আমার অপরাধ। এসব ঘটনার পেছনের জড়িতরা আমাকে ধমকাচ্ছে। গুলি করার হুমকি দিচ্ছে।

জনগণকে সাক্ষী রেখে কাদের মির্জা বলেন, আগামী ১৬ জানুয়ারি বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচন বানচাল করার জন্য আমার এলাকায় অস্ত্র আনা হচ্ছে।

বিডি প্রভাত/আরকে