সকল শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা হবে: কুবি উপাচার্য

সকল শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা হবে: কুবি উপাচার্য

হাবিবুর রহমান, কুবি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষার্থীরা সুরক্ষা অ্যাপে কোভিড-১৯ এর টিকার নিবন্ধন নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে ইউজিসির নির্দেশনা মোতাবেক সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে চেষ্টা করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা না থাকা ও সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন সাবমিট করতে গিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে, শনিবার (১০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, যে সকল শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে টিকা গ্রহনের জন্য তথ্য প্রদান করতে পারেননি তাদের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের জন্য শীঘ্রই সার্কুলার দেওয়া হবে।

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার জন্য সকল বিভাগীয় প্রধানদের শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয় পত্রসহ তালিকা তৈরী করে দেয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হচ্ছে। তালিকা আসলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্ভারে সংযুক্ত করার জন্য পাঠানো হবে। যাতে সকল শিক্ষার্থী রেজিষ্ট্রেশন করে টিকা নিতে পারে।

যে সকল শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয় পত্র নেই তাদের কিভাবে টিকার আওতায় আনা হবে এমন প্রশ্নে রেজিস্ট্রার ড. আবু তাহের বলেন, যাদের এনআইডি নেই তারা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এনআইডি সংগ্রহের জন্য আবেদন করবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ হতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

আমাদের উপাচার্য স্যারও ইতোমধ্যে কথা বলেছেন, যেন শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে যতদ্রুত সম্ভব তাদের এনআইডি করে দেওয়া হয়। পূর্বে যাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে তারা কবে থেকে টিকা নিতে পারবে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার বলেন, আগে যাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে সে তালিকা আমাদের ওয়েবসাইটে আছে। আমরা সিভিল সার্জন অফিস এবং ইউজিসিতে যোগাযোগ করছি যাতে এ তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্ভারে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।

তাদের এনআইডির তথ্য সার্ভারে সংযুক্ত করে দিলেই তারা রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করে টিকা নিতে পারবে। আর এ তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের নতুন করে বিভাগে তথ্য দিতে হবে না।

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা হবে। যাদের এনআইডি নেই তাদের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনে কথা বলেছি যাতে জরুরী ভিত্তিতে আমাদের শিক্ষার্থীদের এনআইডি করে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মাসে টিকার জন্য আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ইউজিসি মোট ৫৩৮ জন শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সুরক্ষা অ্যাপে আবেদন করতে নির্দেশনা দেন ইউজিসি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার পর নতুন করে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করা যাচ্ছে না। ইউজিসি থেকে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধ করতে বলা হলেও সেখানে হলের রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীরা আর নিবন্ধন করতে পারছেন না। প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়ার পর দেখানো হচ্ছে, দুঃখিত, এই মুহূর্তে আপনি ভ্যাকসিনের জন্য নির্বাচিত নন।

বিডি প্রভাত/জেইচ