শ্বশুর বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে না দেয়ায় স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করলো স্বামী

শ্বশুর বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে না দেয়ায় স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করলো স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলায় শ্বশুর বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে না দেয়ায় আনার কলি (৩৩) নামে এক গৃহবধূকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরঘাট গ্রামে দাফনের প্রস্তুতিকালে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ধুনট উপজেলার ঈশ্বরঘাট গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের মেয়ে আনার কলির পারিবারিক সম্মতিতে একই গ্রামের এক যুবকের সাথে বিয়ে হয়। সেখানে ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের সুখেই ছিলেন আনার কলি। এরই মাঝে নানা প্রলোভন দিয়ে আনার কলির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রতিবেশী অটোরিকশা চালক মোজাম্মেল হক। এ ঘটনা জানাজানি হলে আগের স্বামীর সাথে আনার কলির বিচ্ছদ ঘটে।

এ অবস্থায় ২০১৮ সালের মে মাসে আনার কলিকে বিয়ে করেন মোজাম্মেল হক। তবে মোজাম্মেল হকের আগের পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর দ্বিতীয় স্ত্রী আনার কলিকে বাবার বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে দেওয়ার চাপ দেয় মোজাম্মেল হক। কিন্তু এতে রাজি হয়নি আনার কলি। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আনার কলিকে হত্যার পরিকল্পনা করে মোজাম্মেল হক ও তার প্রথম স্ত্রী।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোজাম্মেল হক ও তার প্রথম স্ত্রী মিলে মিষ্টির সাথে বিষ মিশিয়ে কৌশলে আনার কলিকে খায়ানো হয়। তখন আনার কলি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে ভর্তি করে মোজাম্মেল হক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে তার মৃত্যু হয়।

আনার কলির মৃত্যুর বিষয়টি তার স্বাজনদের না জানিয়ে গোপনে দাফনের প্রস্তুতি নেয় মোজাম্মেল হক। এ বিষয়টি জানার পর আনার কলির ভাই আব্দুস ছোবাহান পুলিশকে জানালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, আমার স্ত্রী আনার কলি মিষ্টি খেয়ে ডায়রিয়া রোগে আক্রন্ত হন। বমি ও পাতলা পায়খানা করে অচেতন হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ মিথ্যা।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, আনার কলির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিডি প্রভাত/আরএইচ