রূপগঞ্জের বাতাসে বাতাসে কান্নার ধ্বনি

রূপগঞ্জের বাতাসে বাতাসে কান্নার ধ্বনি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। কারখানা থেকে লাশ বের করার সঙ্গে সঙ্গে কান্নার রোল পড়ে যাচ্ছে। এ যেন বাতাসে বাতাসে কান্নার ধ্বনি।

কেউ কাঁদছেন সন্তানকে হারিয়ে, আবার কেউ আহাজারি করছেন মা-বাবাকে হারিয়ে। বেঁচে নেই নিশ্চিত হয়েও শুধু প্রিয়জনের দেহাবশেষের ছুঁয়ে দেখতে বুক চাপরাচ্ছেন কেউ কেউ।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ৫টি অ্যাম্বুলেন্সে করে এসব মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে নিয়ে আসা হয়। প্যাকেটে ভরা মৃতদেহগুলো এক এক করে বের করে মর্গে হিমঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢামেক মর্গে যখন লাশগুলো আনতে থাকেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা, তখন সেখানে ছুটে যাচ্ছেন নিহতদের স্বজন ও সহকর্মীরা। পোড়া মৃতদেহগুলোর বেশিরভাগই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ আর এর আশপাশের এলাকা। পুড়ে যাওয়া লাশের উৎকট গন্ধ আর লাশের বীভৎসতা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই প্রিয়জনদের খুঁজছেন স্বজনরা।

এর আগে নারায়ণগঞ্জে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন ৪৯ মৃতদেহ উদ্ধার তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আমরা ৪৯ জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কারখানা ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ভবনের অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে শ্রমিকরা ভবনের ছাদে জড়ো হন। ছাদসহ বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন অনেকে। এতে ওই রাতেই তিনজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, আহতও হন অসংখ্য শ্রমিক।