রুপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ আটক ৮

রুপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ আটক ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ফুডসের (সেজান জুসের) কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানিতে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল হাসেমসহ আটজনকে আটক করেছে নারায়নগঞ্জ জেলা পুলিশ। আজ শনিবার (১০ জুলাই) দুপুরে আবুল হাশেমকে তার গুলশানের বাসা থেকে আটক করা হয়েছে।

নারায়নগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, রুপগঞ্জের হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও অর্ধশতাধিক নিহতের ঘটনায় শনিবার দুপুরে গুলশানের নিজ বাসা থেকে আবুল হাশেমকে আটক করা হয়েছে। তিনি ছাড়াও এ ঘটনায় আরও সাতজনকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাদেরকে নারায়নগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৩০২ ধারায় পুলিশ বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম, তার ছেলে সজীবসহ আটজন গ্রেফতার হয়েছেন। বাকিদের মধ্যে কোম্পানির সিও, পরিচালক, ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইনচার্জও রয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পর শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সারাদেশ এ ঘটনায় স্তব্ধ। একসঙ্গে এতজনের প্রাণহানি খুবই দুঃখজনক। প্রথমে তিনজন পরবর্তীতে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। ফায়ার সার্ভিস কিছু জীবিতদেরও উদ্ধার করেছে। এখন পর্যন্ত আটজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় পৃথক তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কারখানায় কতজন লোক কাজ করত, সবই তদন্তে বেরিয়ে আসবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সহযোগিতা করা হয়েছে। আরও সহযোগিতা প্রয়োজন হলে সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে।

মামলা ও দোষীদের শাস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই মামলা হবে, এর সঙ্গে সামান্যতম দোষীদেরও আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। তদন্তের আগে বিস্তারিত কিছু বলতে চাচ্ছি না। তদন্ত শেষে অবশ্যই তাদের বিচার হবে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানা ভবনের ছাদ আটকানো ছিল এবং সিঁড়িতে তালা দেয়া ছিল- এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৭ জনকে ছাদ থেকে বড় একটি মই দিয়ে রেস্কিউ করেছে ফায়ার সার্ভিস। সিঁড়িতে ও ছাদে তালা দেয়া ছিল কি-না তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।