রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভারত থেকে আসছে ডাস্ট কয়লা

রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভারত থেকে আসছে ডাস্ট কয়লা

আকাশ মল্লিক, রামপাল উপজেলা প্রতিনিধি: মোংলা বন্দর সংলগ্ন নির্মাণাধীন রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ভারত থেকে আনা হচ্ছে ডাস্ট কয়লা। ৩ হাজর ৭৫২ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে তবনটি লাইটার বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসেছে বুধবার সকালে। এর আগে গত সোমবার ভারতের কোলকাতা বন্দরের নেতাজি সুভাষ ডক ইয়ার্ড ( এনসি ডক) থেকে বাংলাদেশী মালিকানা তিনটি লাইটারে কয়লা বোঝাই করা হয়। সীমান্তে ভারতীয় কাস্টমসের পর বাংলাদেশি কাস্টমসের সকল কার্যক্রম শেষ করে আগামী রোববার ( ১১ জুলাই) মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তিনটি লাইটারের।

ভারত থেকে বাংলাদেশে নদী পথে কয়লা বহনের দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশী এজেন্ট থ্রিলাইট নেভিগেশন কোম্পানির প্রতিনিধি এইচ এম আব্দুস সালাম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এমডি আল বেরুনী সৈকত – ২ লাইটারে ৬৭৫ মেট্রিক টন, এমভি শ্যামল বাংলা লাইটারে ১৮৫৫ মেট্রিক টন ও এমভি এনামুল হোসেন লাইটারে ১২২২ মেট্রিক টন করে সর্বমোট ৩ হাজার ৭৫২ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে বুধবার সকালে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসেছে। যা খালাস করা হবে রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। 

তিনি বলেন, লাইটারে বোঝাই করা কয়লা গুলো নিম্নমানের ( ডাস্ট) । কেন এমন ডাস্ট কয়লা ভারত থেকে আনা হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে চাননি। তবে তাদের মাধ্যমে চলতি মাসে আরও ৬ টি লাইটার আসবে একই মানের পণ্য নিয়ে এমনটা জানান এ ব্যবসায়ী। এছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিপূর্ণ চালু হলে প্রতি মাসে ২০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা তারা ভারত থেকে বহন করবেন বলে জানান।

কয়লা বহনকারী এমভি আল বেরুনী সৈকত – ২ লাইটারের মাস্টার মোঃ কবির হোসেন মুঠোফোনে জানান, ভারত সীমান্তে হেমনগরে ভারতীয় কাস্টমসের কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশি কাস্টমসের কার্যক্রম শেষ করে শিপসা নদী পাড়ি দিয়ে চালনা এলাকা হয়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছাবে আগামী রোববারের যে কোন সময়। এর পর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কর্মকান্ড শেষ করে আমদানীকৃত কয়লা উত্তোলন করবেন বলে জানান নাবিক কবির হোসেন।

এদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার বাগেরহাট জেলার সভাপতি নুর আলম শেখ বলেন, ভারতীয় কয়লা পৃথিবীর সব থেকে নিম্নমানের। প্রতি কেজি অস্ট্রেলীয় বা ইন্দোনেশীয় কয়লার যেখানে ৭০ গ্রাম ফ্লাইঅ্যাশ তৈরি হয়, সেখানে ভারতীয় কয়লার ফ্লাইঅ্যাশ তৈরি হয় ৩০০ গ্রাম। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ভারতীয় কয়লা দরকার ৭০০ গ্রাম, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়লা দরকার ৪৫০ গ্রাম ও ইন্দোনেশিয়ার ৫০০ গ্রাম। যে কারণে ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্য নিজেই অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা আমদানি করে থাকে। তাই রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদনের দূষণ আর ভারতীয় নিম্নমানের কয়লা ব্যবহারের ফলে দূষণের মাত্রা বেড়ে সুন্দরবনের, মাটি, পানি, গাছপালা ও প্রাণী সম্পদের যে ক্ষতি হবে, এর ফলে সুন্দরবন ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই শুধু ভারতীয় কয়লা আমদানী নয়, প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান বাপার এ নেতা।

রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাবলিক রিলেশন কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম মুঠোফোনে জানান, নির্মাণাধীন রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হবে উন্নোত মানের কয়লা। এখন শুধু মাত্র গুদাম নির্মাণের জন্য ভারত থেকে ডাস্ট কয়লা আনা হচ্ছে। 

বিডি প্রভাত/আরএইচ