রাণীনগরে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস,দেয়াল ধ্বসে যে কোন সময় প্রাণহানীর আশংকা

রাণীনগরে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস,দেয়াল ধ্বসে যে কোন সময় প্রাণহানীর আশংকা

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ): নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া পুকুর পাড়ে সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের
নির্মিত আড়াই বছরের মাথায় ঘরে ফাটল ধরেছে। অসহায় পরিবার ঘর মেরামত করতে না পারায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নিরুপাই হয়ে বসবাস করছেন ফাটল ধরা ঘরে। যে কোন সময় ইটের দেয়াল ধ্বসে প্রাণহানী ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন পরিবারটি।

জানা যায়, গত ২০১৭ইং সালে গৃহহীনদের জন্য সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের কাচারী বেলঘড়িয়া গ্রামে পুকুর পারে ২ কক্ষ বিশিষ্ট ইটের পাকা ২০ টি ঘর নির্মান করা হয়। ওই সময় সেনাবাহিনীর অনুকুলে ঘর নির্মান কাজ শেষ করা হয়। ওই সালের মে মাসে ঘর নির্মান শেষে সুবিধা ভোগীদের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়। ঘর নির্মানের মাত্র আড়াই বছরের মাথায় সুবিধা ভোগী সাবের আলীর ঘরের দেয়াল ফেটে যায়।

বর্তমানে দেয়ালের ইট খুলে পরার উপক্রম হয়ে পরেছে। যে কোন সময় দেয়াল ধ্বসে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন করা হচ্ছে। পরিবাররের লোকজন বলছেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তারা এসে পরিদর্শন করে ছবিও তুলে নিয়ে গেছেন। কিন্তু এর পরেও কোন সংস্কার হচ্ছেনা।

সাবেরের স্ত্রী জুলেখা বিবি বলেন,আমরা গরীব মানুষ। আমার সংসারে ২ মেয়ে ও ১ ছেলেসহ ৫সদস্য রয়েছে। পান খাবারের জন্য বাড়ীতে চুন তৈরি করে হাটে-বাজারে বিক্রি করে ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের ভরণ পোষন করতে হয়। ব্যবসা করে যে পরিমান আয় রোজগার হয় তা দিয়ে কোন রকম সংসার চলে। পাকা ঘর মেরামত করতে গেলে যে পরিমানে টাকার প্রয়োজন তা আমাদের নেই। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আতংক আর অশংকার মধ্যে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল মামুন বলেন,খবর পেয়ে ঘরগুলো পরিদর্শন করেছি। যেহেতু ঘরগুলো হস্তান্তরের পর আমাদের আর দ্বায়িত্ব থাকেনা। তার পরেও সরকারী কোন বরাদ্ধ পেলে সংস্কার করা হবে।

বিডি প্রভাত/জেইচ