প্রথমবার মঙ্গলের শব্দ শুনলো পৃথিবী

প্রথমবার মঙ্গলের শব্দ শুনলো পৃথিবী

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: বিজ্ঞানীদের কাছে প্রতিটি মহাকাশযানের ল্যান্ডিংয়ের শেষ মুহূর্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কারণ, গ্রহে নামার শেষ মুহূর্তে গতিকে কন্ট্রোল করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এবার মঙ্গল গ্রহের মাটিতে পা রাখার মুহূর্তের ভিডিও পাঠিয়েছে নাসার রোভার পার্সিভারেন্স বিভাগ। নাসার পক্ষ থেকে সেই সফলতার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল ঢোকার মুহূর্ত থেকে শুরু হয় ভিডিওটি।

যে সময় গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মাইল। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা মাত্রই ছোট্ট সিলিন্ডার থেকে বেড়িয়ে আসে বিরাটাকার প্যারাসুট। গতি কমানো জন্য চলে আপ্রাণ চেষ্টা।

মঙ্গল গ্রহে এই প্রথম এত বড় প্যারাসুট পাঠানো হয়েছে। তারপর, আতঙ্ক বাড়তে শুরু করে বিজ্ঞানীদের। চুপ হয়ে মনিটার করতে থাকে গোটা বিষয়টি। নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়। তখন নাসার ল্যান্ডার আর তার পেটের ভিতরে থাকা রোভার ‘পার্সিভারেন্স’ মঙ্গলের মাটি ছোঁয়ার লক্ষ্যে ছুটে চলেছে।

কিন্তু গতি বেশি থাকলে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে সে। এরপর যখন উচ্চতা ১১ কিলোমিটারে পৌঁছাল তখন ধীরে ধীরে নামতে থাকল পার্সিভারেন্স। তখন গতি গিয়ে পৌঁছয় সেকেন্ডে ৩ মিটার।

এরপর দেখা যায়, মঙ্গলের মাটিতে ধুলো উড়ছে, বোঝা যাচ্ছে একেবারে নিকটে এসে গিয়েছে, গতির সঙ্গে তীব্র হাওয়া এলোপাথাড়ি করে দিচ্ছে মঙ্গলের মাটি। যার শব্দ রেকর্ড করে পাঠিয়েছে রোভারের সঙ্গে থাকা মাইক্রোফোন। তারপর রোভার জানায় সঠিকভাবে সে পৌঁছে গিয়েছে।

১৯৯৭ সালে প্রথম মঙ্গলে কোনো গাড়ি বা রোভার নামে। সেই যন্ত্রটির নাম ছিল রোভার সোজর্নার। ঐ মোবাইল রোবটে এক্সরে যন্ত্র লাগানো ছিল। এখনো মঙ্গলে রয়েছে সোজর্নার। তবে কিউরিওসিটি পৌঁছানোর পরে ঐ যানটির আর কোনো গুরুত্ব নেই।

বিডি প্রভাত/জেইচ