পুত্রের পরকীয়া প্রেমের খেসারত দিতে পিতা-ভাই জেল হাজতে

পুত্রের পরকীয়া প্রেমের খেসারত দিতে পিতা-ভাই জেল হাজতে

পরিমল চন্দ্র বসুনিয়া, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ মেহেদী হাসান। তার প্রাইভেট ছাত্রীর মা দুই সন্তানের জননী। সেই নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরে সেই প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়েও যান মেহেদী হাসান। এদিকে স্ত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয়েছে- এমন অভিযোগে স্ত্রীর প্রেমিক মেহেদী হাসান ও তার বাবা-ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই নারীর স্বামী। সেই মামলা ছেলের পরকীয়া প্রেমের খেসারত দিতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এখন জেল হাজতে মেহেদী হাসানের বৃদ্ধ বাবা হামিদুল ইসলাম ও বড় ভাই হাবিবুর রহমান। এমন ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীখাতা গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, দলগ্রাম বাজারের এক চা বিক্রেতার সাথে একই এলাকার হামিদুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসানের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে ওই চা বিক্রেতার সন্তানকে মেহেদী হাসান প্রাইভেট পড়াতেন। এতে ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াতের এক পর্যায়ে প্রাইভেট ছাত্রী’র মায়ের সাথে মেহেদী হাসানের পরকীয়া প্রেম শুরু হয়। গত ১৯ জুন মেহেদী হাসান তার পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যান। ২২ জুন ওই নারী তার স্বামীকে তালাক দিয়ে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে আদালতের আশ্রয় নিয়ে প্রেমিক মেহেদী হাসানকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন ওই নারী।

কিন্তু ২৫ জুন ওই নারীর আগের স্বামী দাবি করেন, তার স্ত্রীকে মেহেদী হাসান, মেহেদীর বাবা হামিদুল ইসলাম ও ভাই হাবিবুর রহমান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করেন। এ অভিযোগে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় মেহেদীর বাবা হামিদুল ইসলাম ও ভাই হাবিবুরকে গ্রেপ্তার করে জেল-হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে জানা যায়, ছেলের পরকীয়া প্রেমে বাবা ও বড় ভাইকে জড়ানো এবং তাদের গ্রেপ্তার করে জেল-হাজতে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, মেহেদী হাসান অপরাধী হলে তার শাস্তি হোক।

কিন্তু তার অপরাধের খেসারত কেনো তার বৃদ্ধ বাবা ও বড় ভাইকে দিতে হবে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বাবা ও বড় ভাই পরকীয় প্রেমের মতো নিকৃষ্ট কাজে সহযোগিতা করেছেন- এটা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য। স্থানীয়রা বলছেন, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মেহেদী হাসানের সাথে ওই নারীর আগের একটি সর্ম্পক রয়েছে। সেটা যদি সত্য হয় তাহলে অপহরণ হবে কেনো। ওই পরিবারকে হয়রানি করতেই বাবা ও বড় ভাইকে জড়িয়ে এ অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেহেদী হাসানের পরিবারকে হয়রানি করতে এ ঘটনায় কলকাঠি নাড়ছেন ওই এলাকার একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে ওই নারীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অপহরণ মামলার বাদী ওই নারীর স্বামী জানান, বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে মেহেদী হাসান আমার এত বড় ক্ষতি করেছে। আমি ওই পরিবারকে এমন শিক্ষা দিতে চাই যেন কেউ আমার মতো আর কারো ক্ষতি করতে না পারে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আরজু সাজ্জাদ হোসেন জানান, মেহেদী হাসানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষ যাতে ন্যায়বিচার পায়, সেই লক্ষে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিডি প্রভাত/আরএইচ