নিয়ামতপুরে ৭ম দিনে চলছে ঢিলেঢালা ‘লকডাউন’

নিয়ামতপুরে ৭ম দিনে চলছে ঢিলেঢালা ‘লকডাউন’

নিয়ামতপুর সংবাদদাতা: নিয়ামতপুরে ৭ম দিনে চলছে ঢিলেঢালা ‘লকডাউন’, বৃদ্ধি পেয়েছে উপজেলার সাধারণ মানুষের চলাচল। উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন বাজার, অলিগলি, রাস্তায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবির টহল থাকলেও কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলা সদরের তিনমাথার মোড়ে পুলিশি চেকপোষ্ট থাকলেও কোন ভ্যান, মোটর সাইকেল কিংবা অটো চার্জার চালক বা যাত্রীদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে না তারা কোথায় এবং কেন যাচ্ছে? সম্পূর্ণ বাধাহীনভাবেই চলাচল করছে সাধারণ মানুষ। উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনেই জমা হয়ে আছে চার্জার ভ্যান।

কঠোর লকডাউনের প্রথম দুতিন দিন মানুষ ঘরে থাকলেও এখন আর থাকতে চায় না। তাছাড়া সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত শুধুমাত্র মুদিখানার দোকান খোলা রাখার অনুমতি দিলেও এই সুযোগে অন্যান্য দোকানীরা তাদের দোকান খুলে বসে থাকে। দোকান খোলা থাকার কারণেও সাধারণ মানুষের ভীড়
বেড়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। পাশাপাশি কিছু কিছু হোটেল পার্সেল বিক্রির অজুহাতে হোটেলের প্রধান দরজা বন্ধ রেখে ভেতরে চেয়ার টেবিলে বসেই খাবার খাওয়াচ্ছে।

উপজেলা সদর, ছাতড়া বাজার, বামইন বাজার, খড়িবাড়ী বাজার, গাংগোর বাজার, নিমদীঘি বাজার, গাবতলী বাজার, শিবপুর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কিছু কিছু দোকানদাররা গোপনে তাদের বেচা কেনা করে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামে একটু একটু করে চা ষ্টলগুলো খুলে বসছে। এই সুযোগে গ্রামের সাধারণ মানুষরা সেই সব চা ষ্টলে বসে আড্ডা দেওয়া শুরু করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতিদিন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটি চলেছেন কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে। যারা মাস্ক পরে না বা সরকারী বিধিনিষেধ ও স্বাস্থবিধি লংঘন করছে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করছে।

অপরদিকে করোনা প্রতিরোধে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কিংবা গ্রাম কমিটি নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন, সরকারী বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে করোনা প্রতিরোধে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং গ্রাম কমিটিগুলোকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন সচেতন
মহল।

বর্তমানে নিয়াতমপুর উপজেলা করোনা সংক্রমন নিম্নমুখী। বর্তমান পরিস্থিতি অনেক ভালো। কয়েক সপ্তাহ কঠোরভাবে লকডাউন পালন করায় এ সুফল পেয়েছে উপজেলাবাসী। যদি আবারও সাধারণ মানুষ কঠোর লকডাউন পালনে অনিহা প্রকাশ করে, সরকারী বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে অবহেলা করে তাহলে আবারও উপজেলায় করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যাবে বলে মনে করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্থানীয় প্রশাসন মনে করেন, শুধুমাত্র লকডাউন দিয়ে করোনাকে মোকাবেলা করা যাবে না। যতক্ষন না সাধারণ মানুষ নিজেরা সচেতন না হবে। নিজেরা সরকারী বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলবে। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। অতি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরে বের হবেন।

বিডি প্রভাত/জেইচ