নিয়ামতপুরে শরীরে আগুন লাগিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা চেষ্টা: একদিন পর মৃত্যু

নিয়ামতপুরে শরীরে আগুন লাগিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা চেষ্টা: একদিন পর মৃত্যু

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর নিয়ামতপুরে মানুষিক সমস্যার কারণে বুধবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এক গৃহবধূ। এসময় প্রতিবেশীদের সহায়তায় স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পার্শ্ববর্তী ললিপুকুরে কবিরাজের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা করে বাড়ী নিয়ে আসেন। একদিন পর বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যে ৭টায় অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মারা যান গৃহবধূ তামান্না (২২)।

তামান্না উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট বাসিন্দাপাড়ার ইসমাইলের স্ত্রী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রসুনপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে তামান্নার ৪ বছর পূর্বে উপজেলার মাকলাহাট বাসিন্দাপাড়ার ইসমাইলের সাথে বিয়ে হয়। তামান্না স্বামী ইসমাইলের সঙ্গে স্বামীর বাড়িতে থাকতো। আড়াই মাসের ইসরাত জাহান তাসফিয়া নামে ওই দম্পতির একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

শিবপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) চিত্তরঞ্জন বলেন, তামান্নার শরীরের ৭৫% শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ঘটনায় শুক্রবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) মতিয়ার রহমান, নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ হুমায়ন কবির ও শিবপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) চিত্তরঞ্জন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ ও পরিবার সুত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৫ টার দিকে বাড়ীর দোতলা একটি ঘরে তামান্না দরজা লাগিয়ে গ্যাসলাইট দিয়ে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়। তখন স্বামী ইসমাইল বাড়ীর বাইরে গরুকে পানি খাওয়াচ্ছিলেন। আগুনের ধোয়া দেখতে পেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্য স্বামী ইসমাইলকে সংবাদ দিলে সাথে সাথে ছুটে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে। ততক্ষনে তামান্নার প্রায় পুরো শরীর পুড়ে গেছে। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাশ্ববর্তী গ্রাম ললিপুকুরে কবিরাজের বাড়ীতে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে বাড়ী নিয়ে আসে। বাড়ীতেই পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যে ৭টায় মারা যান তামান্না।

নিহতের স্বামী ইসমাইল জানান, সে বাচ্চা হওয়ার পর থেকে মানষিক সমস্যায় ভুগছিল। আমি ও আমার শ্বশুড়/শ্বাশুড়ীরা তাকে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করাচ্ছিল। ইতি পূর্বে সে আরো দুবার নিজের শরীরে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিল।

নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়ের সংসার ভালই চলছিল। আড়াই মাস আগে সন্তান হওয়ার পর থেকে মেয়ের মাথার সমস্যা সৃষ্টি হয়। মানুষিক সমস্যার কারণেই আমরা আমাদের মেয়েকে হারালাম। আমাদের কোন অভিযোগ নেই।

নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ হুমায়ন কবির বলেন, নিহত গৃহবধুর মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মানুষিক সমস্যার কারণেই সে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পরিবারের কারো কোন অভিযোগ নেই।

বিডি প্রভাত/আরএইচ