দেশের প্রথম ইয়াবা মামলার বিচার ঝুলে আছে ১৭ বছর ধরে

দেশের প্রথম ইয়াবা মামলার বিচার ঝুলে আছে ১৭ বছর ধরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম ইয়াবা মামলার বিচার ১৭ বছর ধরে ঝুলে আছে। মামলার দেড় যুগ পরেও এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামিসহ তিন জন এখন জামিনে রয়েছে। মামলার ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র দুই জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকিদের জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেও আদালতে হাজির করা যায়নি।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ এফ এম রেজাউল করিম হিরণ বলেন, মামলাটি পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন। পরিবেশ আদালতের আপিল বিভাগে বিচারক না থাকাও বিচার বিলম্বিত হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ। গত বছরের জুন থেকে এই মামলার কোর্টের বিচারক নেই। মূলত করোনাকালীন ছুটিজনিত কারণে গত বছরের মার্চ মাস থেকেই এই মামলার কোনো অগ্রগতি নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বর্তমানে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ট্যাবলেটগুলো ধরা পড়ার পর রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা ইয়াবার বিষয়টি নিশ্চিত হই। চ্যাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তে নেমে দেশে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছয় জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিই। এটি দেশে ইয়াবার প্রথম মামলা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা এই মামলা ২০১৬ সালে পরিবেশ আদালতের আপিল বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। তবে এই আদালতে বিচারক না থাকায় মামলাটি বিচারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। পরিবেশ আদালতের আপিল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ-সংক্রান্ত মামলার বাইরে যে মামলাগুলোর বিচার দীর্ঘদিন আটকে আছে, সাক্ষী হাজির করতে পারছে না, সেসব মামলা এখানে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বারবার সমন জারি করেও আদালতে সাক্ষী হাজির করা যাচ্ছে না। ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক ফজলুর রহমান ও পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকি ১৩ জনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবার প্রথম মামলায় এজহারভুক্ত দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। এরা হলো সোমনাথ সাহা ও এমরান হক। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছে। ইয়াবার প্রথম মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র চার জন সাধারণ জনগণ। বাকি ১১ জনই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, যাদের মধ্যে বেশ কয়েক জন চাকরির মেয়াদ শেষে অবসরে গেছেন। একাধিক আইনজীবী বলেন, সাক্ষীকে আদালতে হাজির করানোর দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু নিজে পুলিশ সদস্য হয়েও অনেকেই সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন না। এতে থেমে থাকছে মাদক মামলার বিচার।

বিডি প্রভাত/জেইচ