দুই সিটে যাত্রী নিলেও ভাড়া দ্বিগুণ

দুই সিটে যাত্রী নিলেও ভাড়া দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন শিথিল করেছে সরকার। গণপরিবহন ছেড়ে দেয়া হলেও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা ও দুই সিটে একজন যাত্রী নেয়ার বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে গত দুই দিনে রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, সায়দাবাদ, কমলাপুর ও সদরঘাটে বাড়ি ফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গেল দুই দিনের ধারাবাহিকতা আজ শনিবার (১৭ জুলাই) গাবতলীতে অব্যাহত রয়েছে।

তবে যাত্রীর চাপে নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করতে দেখা গেছে কাউন্টারগুলোকে। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করার কথা থাকলেও সেই নিয়ম মানছে না অনেক পরিবহন। এক বাসের টিকিট কাটলেও অন্য বাসের তুলে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাড়তি ভোগান্তি হিসেবে যোগ হয়েছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা।

অন্যদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া। তবে সিট দেওয়া হচ্ছে একটিই। অর্থাৎ সব সিটেরই টিকিট বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ কাউন্টারে টিকিটের কথা জিজ্ঞেস করা হলেই কাউন্টার মাস্টাররা জানিয়ে দিচ্ছেন টিকিট নেই। কিন্তু যেসব বাস যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাবে বা যাচ্ছে এমন গাড়ির টিকিট সহসাই মিলছে। তবে যাত্রীকে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এসব বিষয়ে যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গেলে লস (ক্ষতি) হবে তাই শতভাগ যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে হচ্ছে। তবে যারা অতিরিক্ত ভাড়া দিচ্ছেন, তারা দুটি করে সিট পাচ্ছেন।

তবে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতেই অতিরিক্ত যাত্রী নিচ্ছেন তারা। আর যাত্রী নামার পর খালি বাস ফেরত আসবে, এ জন্য সবার কাছ থেকে ডাবল সিটের ভাড়া নেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে মধ্য রাত ও শনিবার সকালেও রাজধানীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারগুলোতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। দুই সিটেই যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কাউন্টারগুলোতেও যাত্রীদের গাদাগাদি করে বসে থাকতে দেখা যায়। বাস দেখলেই দলবেঁধে যাত্রীরা উঠে পড়ায় উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি।

বিডি প্রভাত/জেইচ