ঢামেকের বাতাসে বাতাসে স্বজনদের কান্নার ধ্বনি

ঢামেকের বাতাসে বাতাসে স্বজনদের কান্নার ধ্বনি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেকে) হঠাৎ সাইরেন বাজিয়ে মর্গের সামনে এসে দাঁড়ায় নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স। একে একে অ্যাম্বুলেন্স নামানো হয় মরদেহগুলো। রাখা হয় ময়নাতদন্ত কক্ষের কাছেই ফাঁকা ঘরের মেঝেতে।

পরে এল আরও চারটি অ্যাম্বুলেন্স। সবগুলো থেকে একইভাবে মরদেহ নামিয়ে ভেতরে নিয়ে মেঝেতে রাখা হয়। একপর্য়ায়ে ময়নাতদন্ত কক্ষের মেঝে মরদেহে ভরে যায়। ফলে বাকি মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের ঘরে নিয়ে টেবিলের ওপর রাখা হয়। কিন্তু তাতেও জায়গা হচ্ছিল না। ফলে ময়নাতদন্ত কক্ষের ফ্লোরের চারপাশে মরদেহ মোড়ানো ব্যাগগুলো রাখা হয়।

এদিকে স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে উঠেছে কারখানা এলাকা। কারখানা থেকে লাশ বের করার সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যায় কান্নার রোল। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কেউ কাঁদছেন সন্তানকে হারিয়ে, আবার কেউ আহাজারি করছেন মা-বাবাকে হারিয়ে। বেঁচে নেই নিশ্চিত হয়েও শুধু প্রিয়জনের দেহাবশেষের ছুঁয়ে দেখতে বুক চাপরাচ্ছেন কেউ কেউ।

ঢামেক মর্গে যখন লাশগুলো আনতে থাকেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা, তখন সেখানে ছুটে যাচ্ছেন নিহতদের স্বজন ও সহকর্মীরা। পোড়া মৃতদেহগুলোর বেশিরভাগই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া লাশের উৎকট গন্ধ আর লাশের বীভৎসতা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই প্রিয়জনদের খুঁজছেন স্বজনরা।

ঢামেক হাসপাতাল মর্গের মর্গ সরকারী সেকান্দার জানান, অ্যাম্বুলেন্স থেকে ৪৯টি মরদেহ নামানো হয়েছে। মরদেহ আনার ব্যাপারে ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের বেশিরভাগই শিশু। আগুনের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কারখানা ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ভবনের অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে শ্রমিকরা ভবনের ছাদে জড়ো হন। ছাদসহ বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন অনেকে। এতে ওই রাতেই তিনজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, আহতও হন অসংখ্য শ্রমিক।

বিডি প্রভাত/জেইচ