ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আজও যানজট

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আজও যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানির গরুবাহী ট্রাক ও ঘরমুখো মানুষের গাড়ির চাপের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।শুক্রবারও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কটিতে যানজট লেগেছিল।

শনিবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই সড়কটিতে যানবাহনের ধীর গতি লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের তীব্র যানজটের ফলে চালক ও ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী ও শিশুরা

এ সময় বাসের যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেকে বাধ্য হয়ে বাস থেকে নেমে হেঁটেই রওনা দেন গন্তব্যের পথে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে টঙ্গী ব্রিজের পর থেকে স্টেশন রোড, চেরাগআলী, গাজীপুরা, বোর্ড বাজার, ছয়দানা, বাসন সড়ক, ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তা মোড় পর্যন্ত যানজট রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণত মানুষ। যানজটের কারণে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক থেকে শুরু করে সব ধরনের পরিবহন রাস্তায় আটকে আছে। ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও যানজট থেকে মুক্তি মিলছে না। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

সড়কটিতে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তায় উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় সড়কের অনেক জায়গায় ভাঙাচুরা রয়েছে। যার কারণে মাঝে মধ্যেই এই সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গরুবাহী ট্রাক এই সড়ক দিয়ে প্রবেশ করায় যানজট আরও বেড়েছে। এছাড়া ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের গাড়ির চাপের পড়েছে সড়কটিতে। সব মিলিয়ে যানজট লেগেই রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার দিন থেকেই এই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ দীর্ঘদিন বিধিনিষেধের কারণে বাইরে বের হতে না পারায় এখন নানা প্রয়োজনে বের হচ্ছেন। আর একসঙ্গে অনেক মানুষ বের হওয়ার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে গাজীপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়া রহমান বলেন, বাইপাশ থেকে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বাসেেউঠেন তিনি। প্রথমে ভালোই চলছিল। ফাকা রাস্তায় একটানে হারিকেন চলে আসি। কিন্তু হারিকেন থেকে গাড়ি স্লো হয়ে যায়। একই স্থানে এক ঘন্টা বসে থাকায় বিরক্ত হয়ে বাস থেকে নেমে বাসার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন তিনি।

যানজটে আটকে থাকা বাসের এক চালক বলেন, ঢাকা থেকেই তেমন জ্যামে পরিনাই, কিন্তু টঙ্গী বাজার থেকে তীব্র যানযট। এখানেই বসে ২০ মিনিট হবে। গতকাল জ্যাম ছিল, আজও একই অবস্থা। গাড়ি নিয়ে বের হলাম প্রথম যাত্রায় সকাল থেকেই জ্যাম।

ঢাকার প্রবেশমুখ আব্দুল্লাপুরে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ বলেন, ঈদের আগে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ বাড়ায় সকাল সাড়ে আটটার পর থেকেই যানজট শুরু হয়।

গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) আবব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঈদ সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ রয়েছে। সেই সঙ্গে গাজীপুর থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক খানাখন্দে ভরা। উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। আশা করা যায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

বিডি প্রভাত/জেইচ