টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে বট গাছে হরিয়াল পাখির উৎসব

টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে বট গাছে হরিয়াল পাখির উৎসব

বিডি প্রভাত ডেস্ক: বিলুপ্ত প্রজাতির হলদে পা হরিয়াল পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্প্রতি টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে বট গাছে হঠ্যাৎ প্রায় বিলুপ্তির পথে যাওয়া এ পাখি দেখা গেছে। আসলে এসব পাখি উপযুক্ত বসবাসের জায়গা না পাওয়ায় আজ হুমকীর সম্মুখীন।

হলদে পা হরিয়াল পাখি হরিতাল নামেও পরিচিত। পাখিটির প্রিয় খাবার বটফল। পাখিটির ইংরেজি নাম Yellwo footed বা Yellwo legged Green Pigeon। বৈজ্ঞানিক নাম Treron phoenicoptera।

এদের পাঁচটি উপপ্রজাতির মধ্যে এ দেশে শুধু Treron phoenicoptera phoenicoptera উপপ্রজাতিটির দেখা মেলে। পাখিটি সাধারণত লম্বায় ২৫ থেকে ৩৩ সেন্টিমিটার হয়। এদের দেহের ওপরের অংশের রং হালকা ধূসর। ঘাড়ে লালচে ছোপ ও ডানায় সবুজাভ কালোর ওপর হলদে টান রয়েছে।

বুকের নিচের অংশ, পেট ও তলপেট ধূসর। কাঁধে এক ফালি হালকা বেগুনি রং। লেজের ওপরের অংশের গোড়ায় জলপাই-হলদে বলয় থাকে। চোখের আইরিশের ভেতরের বলয়টি নীল ও বাইরেরটি গোলাপি। ঠোঁটের রং হালকা সবুজাভ। পা ও পায়ের আঙুল চকচকে হলুদ।

হরিয়াল এক ধরনের কবুতর জাতীয়, ফলভোগী বৃক্ষচারী বিরল দর্শন পাখি। তবে ইদানীং অনেকে ঘরেও পুষে থাকেন। দেখতে কবুতরের মতো সুদর্শন। একসময় দেশের চিরহরিৎ বনাঞ্চলে প্রচুর দেখা যেত। তবে আবাসস্থল সংকটে আর সেভাবে নজরে পড়ে না। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চেহারা ভিন্ন।

পুরুষ পাখির কপাল ধূসরাভ। মাথা সবুজাভ-হলুদ। ঘাড়ে হালকা ধূসরাভ পট্টি। পিঠ ও ডানা গাঢ় দারুচিনি রঙের। স্ত্রী পাখির কপালে ও ঘাড়ে ধূসরাভ পট্টি নেই। পিঠ গাঢ় সবুজ। উভয়ের ঠোঁট সবুজাভ-ধূসর। চোখ হালকা নীলাভ। পা গোলাপি লাল।

ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি তাদের প্রজনন সময়কাল। গাছের পত্রপল্লভের আড়ালে লতাপাতা, চিকন কাঠি দিয়ে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে দুটি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৬ থেকে ১৮ দিন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলের বনে এদের দেখা খুব কম মেলে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় পাখিটির বিস্তৃতি রয়েছে।

বিডি প্রভাত/জেইচ

Spread the love