ঘুষ বিনিময়ে মেট্রোরেল প্রকল্পের চোরাইকৃত মালামালসহ আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

ঘুষ বিনিময়ে মেট্রোরেল প্রকল্পের চোরাইকৃত মালামালসহ আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর তুরাগে বাউনিয়া উলুদাহায় এলাকা থেকে উওরা মেট্রোরেল প্রকল্পের চোরাইকৃত মালামাল ও ড্রাম ট্রাকসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে তুরাগ থানা পুলিশ।

আটকরা হচেছ- হাশেম রহমান ওরফে জাকির (২৭), মোঃ শফি (১৫),কামরুজ্জামান ওরফে পারভেজ (২৪), সুজন মিয়া (২৬),জলিল মিয়া (২৭), আলামিন (২২),সেলিম হোসেন (২২) ও রফিকুল (২৫)।

ডিএমপি তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান ৮ জনকে গ্রেফতারের বিষয়টি আজ শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তুরাগের ১৭ নাম্বার সেক্টরের বাউনিয়া উলুদাহা খেলার মাঠের পাশ থেকে চুরির মালামাল সহ ট্রাকটি পুলিশ আটক করে। পরে পুলিশ খরব পেয়ে বিকেলে তুরাগের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে উওরা মেট্রোরেল প্রকল্পের চোরাই মালামাল ক্রয় বিক্রি এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে ৮ জনকে আটক করে।

এলাকাবাসি ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে উওরা মেট্রোরেল প্রকল্পের চোরাইকৃত লোহা ভতি একটি ড্রাম ট্রাক তুরাগের ১৭ নাম্বার সেক্টরের বাউনিয়া উলুদাহা খেলার মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে তুরাগ থানার এএসআই রহিম ওই ট্রাকটিকে থামতে সংকেত দেয়। এসময় ওই ট্রাকে থাকা ৫ জনের মধ্যে চার জন কৌশলে পালিয়ে গেলেও নৌজা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

পালিয়ে যাওয়া বাকি চারজন হলেন ওয়াদুদ, নূরনবী, সবুর ও বিল্লাল। এ ঘটনার পরক্ষনে একই থানার এএসআই রতন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দীর্ঘক্ষন আলোচনা ও দহরম মহরম করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আটক নৌজাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

একটি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় পরে দেন দরবার করে ৩১ হাজার টাকার বিনিময়ে চোরাইকৃত মালামাল সহ আটককৃতদের ছেড়ে দেয় তুরাগ থানার এএসআই রতন ও এএসআই রহিম। পরে বিষয়টি ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো, সাইফুল ইসলামকে জানানো হলে নড়ে চড়ে বসে তুরাগ থানা পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, ইতিপূর্বে ও উওরা মেট্রোরেলের চোরাই মালামাল সহ একাধিক লোককে ধরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তুরাগ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

অপর একটি সূএে জানা যায়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান এএসআই আনোয়ারুলকে পাঠিয়ে নতুন করে ৮জনকে গ্রেফতার করে চোরাই মালামাল ও ড্রাম ট্রাক সহ থানায় নিয়ে আসে। যাদের মধ্যে প্রথমে আটক হওয়া মুল হোতা নৌজা ও পালিয়ে যাওয়া চারজনের এক জনও নেই। এছাড়া চোরাই মালামাল ক্রয়ের মুল হোতা দেলোয়ারের নাম ও ছিলো না আটক হওয়া ওই ৮ জনের মধ্যে।

এদিকে পুলিশের হাতে প্রথম আটক হওয়া নৌজা সাংবাদিকদেরকে জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে মালামালগুলো ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ দেখে ওয়াদুদ, নূরনবী, সবুর ও বিল্লাল পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় ভাঙারী দেলোয়ার এসে টাকার বিনিময়ে পুলিশের কাছ থেকে আমাকে সহ আটককৃত মালামাল ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে এএসআই রহিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সে কারনে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে, এ ঘটনায় তার সাথে থাকা তুরাগ থানা পুলিশের এএস আই রতনের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি সাংবাদিকদেরকে ঘটনাটি অস্বীকার করেন।

পরে তিনি বলেন, এ ঘটনায় তুরাগ থানা পুলিশ ৮ জন অভিযান চালিয়ে পরে আটক করেছে । আপনারা ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেন। আমি কিছু জানি না বলেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

এসময় নতুন করে ৮ জনকে আটক দেখানোর ঘটনাটি জানতে চাইলে এএসআই আনোয়ারুল সাংবাদিকদেরকে বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না ভাই। ওসি সাহেব ভালো বলতে পারবেন। এই বিষয়ে কথা বলা আমার নিষেধ আছে। এসময় থানার বাহিরে রাখা আটককৃত মালামাল ও ড্রাম ট্রাকের ছবি তুলতে সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে থানা পুলিশের এক সদস্য তাদেরকে বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে ডিউটি অফিসারের কাছ থেকে আটক ৮ জনের নাম সংগ্রহ করে খোঁজা হয় ভুক্তভোগী তাদের পরিবারকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটককৃত এক ব্যক্তির ভাই সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ কেনো ধরে নিয়ে আসছে জানি না। এই চুরির সাথে আমার ভাই কোনো ভাবেই জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মেট্রোরেলের চোরাইকৃত মালামালসহ ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ধৃত আসামীদেরকে আজ শুক্রবার ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে এনে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। টাকার বিনিময়ে প্রথম আটক হওয়া ৪ ব্যক্তিকে পুলিশ কেন ছেড়ে দিয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এড়িয়ে যান।

এবিষয়ে জানতে উত্তরা বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার ( ডিসি) সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উওরা মেট্রোরেল প্রকল্পের চোরাইকৃত মামামাল ও ট্রাকসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ চোর সিন্ডিকেটের সাথে কারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমি সব কিছূ জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিবো।

বিডি প্রভাত/জেইচ