কোরবানির টাকায় রিকশাচালকের ঘর মেরামত করবেন সুমন

কোরবানির টাকায় রিকশাচালকের ঘর মেরামত করবেন সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এবারের ঈদে দুটি গরু কোরবানি দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

এরই মধ্যে একটি গরু কিনেছেন। মঙ্গলবার দ্বিতীয় গরুটি কিনবেন বলে ঠিক করেন। তবে রাস্তায় চলার পথে দরিদ্র রিকশাচালক ইউসুফ আলীর ভাঙা ঘর দেখে দুটি গরু কোরবানি দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি।

ফেসবুক লাইভে এসে সোমবার বিকেলে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন জানান, সবাই হয়তো পশু কেনার কাজে ব্যস্ত। আমিও দুটো গরু কোরবানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এর মধ্যে একটি গরু কিনেও ফেলেছি। আমি যে ঘরটার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, এটা একটা রিকশাচালকের ঘর।

এটা চুনারুঘাট পৌরসভার ভেতরে চার নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। এ ঘরটা দেখার পর আমার নিজের অনেকগুলো কাজ থমকে গেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমার হয়তো কিছু পয়সা আছে বলে দুটো পশু কোরবানি করার চিন্তা করছি। কিন্তু এই মানুষটার ঘরের চাল দেখে আমার মনে হয়েছে কবিতায় আসমানিদের ঘরের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে, এ ঘরটার অবস্থা তার থেকেও বেশি করুণ।

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, রিকশাচালক ইউসুফের এ ঘরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ে। তার স্ত্রী, চার সন্তানের মধ্যে তিনজন মেয়ে এবং একজন ছেলে। পাশে ছোট টিনের ঘরে তার বাবাও থাকেন। আমরা কেউ কেউ অনেক দামি দামি পশু কোরবানি দিচ্ছি। কোরবানির জন্য হয়তো ছোট একটা গরু দিলেও হয়, সেখানে অনেক দামি দামি গরু কিনছি। কিন্তু এই মানুষটার কোরবানি তো দূরের কথা, থাকার মতো কোনো ঘরই নেই। এক বছর ধরে এ ভাঙা ঘরে বসবাস করছেন।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, বৃষ্টি হলে এ ঘরে থাকার কোনো উপায় নেই। তার (রিকশাচালক) তিনটা মেয়ের মধ্যে একটা মেয়ে পড়াশোনা করে। টাকার অভাবে দুই মেয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। আসলে পড়াশোনার কথা বলা সহজ। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা মুখে বলি, সবাইকে পড়ালেখা করান। কিন্তু আপনার কি মনে হয়, এই ভাঙা টিনের ঘরের মধ্যে থেকে কি কাউকে পড়াশোনা করানো সম্ভব?

আপনাদের আমি আহ্বান জানাই, কারও সামর্থ্য থাকলে দুটি বা তিনটি গরু কোরবানি না দিয়ে, একটি গরু দিয়ে বাকি টাকা দিয়ে আশপাশের গরিব মানুষকে সহযোগিতা করুন। বেশি দামি গরু কোরবানি না করে আপনার বাড়ির আশেপাশের গরিব মানুষকে সহযোগিতা করুন। তাহলে হয়তো সেও ঈদের আনন্দ উপভোগ করবে। সেটাও তো একটা কোরবানি।

দুই-এক দিনের মধ্যে তার ঘরে নতুন টিন লাগিয়ে দেব। তাহলে হয়তো তারা বৃষ্টি থেকে বেঁচে যাবে। পরবর্তীতে ঘর বানিয়ে দেয়ার চিন্তা করব। এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবানদের নিজের আশপাশের দরিদ্র মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিডি প্রভাত/জেইচ