কেশবপুরে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৪১ জন অমুক্তিযোদ্ধা বলে প্রমানিত

কেশবপুরে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৪১ জন অমুক্তিযোদ্ধা বলে প্রমানিত

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোরের কেশবপুর উপজেলায় যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা গেজেটভুক্ত ৪৯ জনের মধ্যে ৪১ জন অমুক্তিযোদ্ধা বলে প্রমাণিত হয়েছে। বাছাই কমিটির সকল সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ৪১ জনের ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন বাছাই কমিটির সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত যেসব মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হয়েছেন তাদের ব্যাপারে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকার পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে নেতিবাচক নানা তথ্য যায়। অনেক মুক্তিযোদ্ধার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাইয়ের আওতায় আনতে পত্র আসে কেশবপুরে। সে মোতাবেক ৪৯ জন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার কাছে চিঠি দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

গত ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলে। মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের নির্দেশনা ও বাছাই বিধি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাছাই সম্পন্ন করেছে গঠিত কমিটি। এবারের যাচাই-বাছাইয়ে রেজাকাটি গ্রামের মো. রশিদুল হক, মাদারডাঙ্গা গ্রামের পরিতোষ দত্ত, মাগ্ররাডাঙ্গা গ্রামের অলিয়ার রহমান ফকির ও আড়ুয়া গ্রামের শৈলেন্দ্র নাথ রায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বলে প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া হদের জহির উদ্দিন, কেশবপুরের মো. নূরুল ইসলাম, সাবদিয়ার জনাব আলী সরদার ও বেতীখোলার মো. চন্টা শেখের বিষয়ে কমিটি দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।জামুকার চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম  জানিয়েছেন, স্বাক্ষী প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারা, ৩৩ প্রকার ক্যাটাগরির প্রশ্নে সদুত্তোর দিতে ব্যর্থ হওয়া ও ৩৭ জন বাছাই বোর্ডের সামনে হাজির না হওয়ায় ৪১ জন গেজেটভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধা বলে প্রমাণিত হয়েছেন। অনুপস্থিত ৩৭ জনের বেলায় ধরে নেয়া হচ্ছে তারা অমুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় হাজির হননি। স্বাক্ষী যোগাড় করতে পারেননি তারা। অনুপস্থিত ৩৭ জনসহ ওই ৪১ জনের ব্যাপারে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এদিকে বাছাই কমিটিতে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, যশোর-৬ কেশবপুর আসনের এমপি শাহীন চাকলাদার মনোনীত প্রতিনিধি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম তৌহিদুজ্জামান। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি তথা সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন।

এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্য সচিব এম এম আরাফাত হোসেন জানিয়েছেন, যাচাই তালিকায় আনা ৪৯ জনের মধ্যে ১২ জন উপস্থিত ছিলেন। স্বচ্ছতার সাথে বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা মিলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলাফলের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

বিডি প্রভাত/আরএইচ