কানাডায় পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

কানাডায় পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

 অনলাইন ডেস্ক: স্কলারশিপটি দেওয়া হবে কানাডা সরকারের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার আনুষ্ঠানিক সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স, ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ডিএফএটিডি) থেকে উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

শিক্ষার্থীরা যেন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে ফুল ফিন্যান্সিয়াল সাপোর্ট নিয়ে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়তে আসতে পারেন। এই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকেও এই বছর থেকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এশিয়া থেকে আছে মাত্র তিনটি দেশ—বাংলাদেশ, নেপাল, তাইওয়ান।

বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কিংবা মাস্টার্সে পড়াশোনা করছেন। এমন যে কেউ আবেদন করতে পারবেন। বিশেষত আন্ডারগ্র্যাজুয়েট যাঁরা পড়ছেন। এটা তাঁদের জন্য সত্যিই একটা বড় সুযোগ।

চার মাস বা এক সেমিস্টারের জন্য স্কলারশিপটি দেওয়া হবে। এই একটা সেমিস্টার আপনি কানাডায় এসে কোনো একটা নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্সওয়ার্ক বা রিসার্চ ওয়ার্ক ইত্যাদি সম্পন্ন করবেন। এর যাবতীয় খরচ কানাডা সরকার বহন করবে।

যে সকল শিক্ষার্থীরা মনোনীত হবে তাঁরা ১০ হাজার ২০০ কানাডিয়ান ডলার পাবেন কানাডিয়ান সরকারের পক্ষথেকে ৪ মাসের জন্য। বাংলদেশি টাকায় সাড়ে ৬ লাখের বেশি (১ কানাডিয়ান ডলার সমান ৬৬ টাকা ৯৩ পয়সা)।

পুরোটা ট্যাক্স ফ্রি! ছয় মাসের রিসার্চের জন্য যে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা আসবেন, তাঁরা ১২ হাজার ৭০০ কানাডিয়ান ডলার পাবেন (প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা)। স্কলারশিপটির স্কিম অনুযায়ী শিক্ষার্থীর কোনো টিউশন ফি থাকবে না কানাডাতে এই এক সেমিস্টার পড়ার জন্য।

আবেদন নিজে নিজে সাবমিট করা যাবে না, করতে হবে বাংলদেশের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে। নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্টাল হেড বা ডিনকে গিয়ে বলতে হবে এই স্কলারশিপের কথা। তিনি নাম–পরিচয় উল্লেখ করে যাবতীয় ডকুমেন্টসহ অনলাইনে আবেদন জমা দেবেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কানাডায় যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে শিক্ষার্থীর আসতে চান এই স্কলারশিপের অধীনে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য ডিএফএটিডির অনলাইন পোর্টালে মোমেন্টাম অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে (https://bit.ly/2HCbLg1)। আবেদন অনলাইনে সাবমিট করলে সেটা পাওয়ার পরে কানাডার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ডিএফএটিডি প্রার্থীর জন্য ফাইনাল আবেদন সাবমিট করবে।

আবেদনের জন্য যে সকল ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে, প্রুফ অব সিটিজেনশিপ: পাসপোর্ট/বার্থ সার্টিফিকেট লাগবে তার সাথে প্রুফ অব ফুলটাইম এনরোলমেন্ট: নিজ নিজ ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট থেকে এটা লেটারহেডে নিতে হবে। লেটার অব ইনটেন্ট: এখানে প্রার্থীকে লিখতে হবে, স্কলারশিপের মোটিভেশন লেটারের মতো করে। নেটার অব সাপোর্ট ফ্রম দ্য হোম ইনস্টিটিউশন: ডিপার্টমেন্টাল হেড বা ডিন প্রাতিষ্ঠানিক লেটার হেডে প্রার্থীর নামসহ উল্লেখ করতে হবে।

লেটার অব ইনভাইটেশন ফ্রম দ্য কানাডিয়ান সুপারভাইজার: এটা শুধু যাঁরা মাস্টার্সে পড়ছেন এবং এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে কোনো কানাডিয়ান প্রফেসরের ল্যাবে রিসার্চ করতে আসতে চান, তাঁদের আপলোড করতে হবে সাইনড কপি অব মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ):।

আবেদনকারী প্রার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান বা ডিন কানাডার যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী পড়তে আসতে চান, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই তারা এমওইউ ফরম্যাট জানিয়ে দেবে। সেখানে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্টের ডিন বা হেডের স্বাক্ষর থাকবে আর বলা থাকবে যে বাংলদেশ থেকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আপনাকে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে কানাডায় পাঠানো হচ্ছে।

এই স্কলারশিপ আপনার যাবতীয় খরচ বহন করবে। তাই কানাডার ভিসা আবেদনে আপনার কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স দেখাতে হবে না।

বিডি প্রভাত/আরকে