কঠোর লকডাউনে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি

কঠোর লকডাউনে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি

সনজয় সেন শুভ, গোপালগঞ্জ: কঠোর লকডাউনেও গোপালগঞ্জ শহরে এবং পুরাতন কাঁচাবাজারের অধিকাংশ দোকানপাট খোলা রাখা হচ্ছে। এবং সেই যায়গা দিয়ে লোকজন অবাধে চলাফেরা করছে।

সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করার পর গোপালগঞ্জের পুরাতন বাজার সরিয়ে নিয়ে শেখ রাসেল শিশু পার্কের পাশে ফাঁকা মাঠে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত অধিকাংশ দোকানদার পুরাতন বাজারে রয়ে গেছে। যে কারণে ওই এলাকায় সর্বক্ষণ জনসমাগম লেগেই থাকে। সেখানেও অধিকাংশ লোকের মুখে মাক্স থাকেনা।

উক্ত এলাকায়, লকডাউনের বিধি নিষেধ সম্পর্কে স্থানীয় একজনকে প্রশ্ন করলে তিনি বিডি প্রভাতকে জানান যে, গোপালগঞ্জ শহরে কাঁচাবাজার সহ অন্যান্য যত দোকানপাট আছে কেউই লকডাউন মানছে না। তারা যেন চোর পুলিশ খেলা খেলছে। দোকানের ভেতর ঢোকার জন্য একটুকু পথ খোলা রেখে বাকিটা বন্ধ করে রাখে এবং একজন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। যখন ভ্রাম্যমাণ আদালত আসে মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত দোকান বন্ধ হয়ে যায় আবার ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে গেলে আবার সবাই আগের মত দোকান খোলা রেখে ব্যবসা করতে থাকে।

এছাড়াও গোপালগঞ্জের গ্রাম এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধে চলাফেরা করছে লোকজন। এতে করে গ্রামের লোকজন আরো বেশি পরিমাণ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে। গ্রামের লোকজন জ্বর ঠান্ডা শ্বাসকষ্ট সহ করোনার অন্যান্য উপসর্গ থাকা সত্বেও কেউ করোনা পরীক্ষা করছে না। করোনা পরীক্ষা না করে সঠিক চিকিৎসা সেবা না নেওয়ার জন্য, করোনার উপসর্গ নিয়ে গ্রাম গঞ্জের লোক বেশি মৃত্যুবরণ করছে এবং পরিবারের লোকজন সেটি গোপন রাখছে। সে কারণে গ্রামগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গোপালগঞ্জ শহরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল

হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। করোনা চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। এবং প্রতিদিন সেখানে করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করো না পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোত্তমভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। জায়গায় জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে করোনার বিধি-নিষেধ না মানার জন্য লোকজনদের জরিমানা করা হচ্ছে।

বিডি প্রভাত/জেইচ