এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীবসহ চার ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীবসহ চার ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

আল-আমিন হোসাইন, পিরোজপুর: ধর্মকে পুঁজি করে গ্রাহকদের আমানতকৃত ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করার দায়ে পিরোজপুরের মাল্টিপারপাস কোম্পানি এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাগীব আহসান (৪০) ও তার তিন ভাই আবুল বাশার (৩৫), মাহমুদুল হাসান (৩০) ও মো. খাইরুল ইসলামকে (২৮) সাত দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিরোজপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মহিউদ্দীন এ আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্র ও সরকারী কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট খান মো. আলাউদ্দিন জানান, পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়েরকাঠী এলাকার মো. হারুন-অর-রশিদ বাদী হয়ে গত ০৯ সেপ্টেম্বর রাগিব আহসানের পরিচালনাধীন এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের জমা ভাউচার মূলে (বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে আনা) অধিক মুনাফার প্রলোভনে বিভিন্ন মেয়াদে ৯১ কোটি ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৩ টাকা জমা দেন।

পরবর্তীসময়ে তারা মুনাফাসহ জমাকৃত টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন সময় টালবাহানা করতে থাকেন। এভাবে তারা গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে তাদের পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে গা ঢাকা দেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি বাসা থেকে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব ও তার ভাই বাশারকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। আর রাগীবের অন্য দুই ভাই মাহমুদুল ও খাইরুলকে পিরোজপুরের খলিশাখালী নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ জ মো. মাসুদুজ্জামান জানান, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাগীব হাসান ও তার তিন ভাইকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের সাত দিনেরই রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার রাগীব হাসান ছিলেন একটি মসজিদের ইমাম। পরে ঢাকার একটি মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিতে কাজ নেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই গড়ে তুলেন এহসান গ্রুপ নামে একটি এমএলএম কোম্পানি।

সেখানে নিয়োগ দেন জেলাসহ জেলার পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট, ঝালকাঠী, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলার মসজিদের ইমাম, কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালীদের। তারা মাহফিলের মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক অধিক মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহ শুরু করেন।

এ সংগৃহীত আমানত দিয়ে ২০০৪ সালে পিরোজপুর পৌরসভার খলিশাখালী এলাকায় এহসান রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠা করেন রাগীব। এরপর
পৌর শহরের সিও অফিস মোড় সংলগ্ন এলাকায় জমি কিনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় স্থাপন করেন। যা ‘এহসান গ্রুপ’ নামে পরিচিতি। ওই এহসান গ্রুপ নামে ১৭টি প্রতিষ্ঠান খুলে প্রায় ২২ হাজার কর্মীর মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন।

আর এসব আমানতের বিপরীতে প্রতি লাখে ২ হাজার টাকা করে ব্যবসায়ীক লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সংস্থাটি। প্রতারক রাগীবের ১৭টি প্রতিষ্ঠান হলো— এহসান গ্রুপ বাংলাদেশ, এহ্ধসঢ়;সান পিরোজপুর বাংলাদেশ (পাবলিক) লিমিটেড, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমেটেড, নূর-ই মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি, জামিয়া আরাবিয়া নূরজাহান মহিলা মাদরাসা, হোটেল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক), আল­াহর দান বস্ত্রালয়, পিরোজপুর বস্ত্রালয়-১ ও ২, এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড,

মেসার্স বিসমিল­াহ ট্রেডিং অ্যান্ড কোং, মেসার্স মক্কা এন্টারপ্রাইজ, এহসান মাইক অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম, এহসান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস, ইসলাম নিবাস প্রজেক্ট, এহসান পিরোজপুর হাসপাতাল, এহসান পিরোজপুর গবেষণাগার ও এহসান পিরোজপুর বৃদ্ধাশ্রম।

বিডি প্রভাত/জেইচ