উত্তরায় সেই পার্টির আয়োজক নেহা পাঁচ দিনের রিমান্ডে

উত্তরায় সেই পার্টির আয়োজক নেহা পাঁচ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তার বান্ধবী ফারজানা জামান নেহার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নেহাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আজিমপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নেহাকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর বাবার করা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। এ নিয়ে এ মামলায় মোট তিনজন গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে গেলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসির আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শাফায়াত জামিল (২২)। এদিন আদালতে হলফনামা দিয়ে মামলায় সম্পৃক্ততার ইচ্ছা প্রকাশ করেন শাফায়াত। এরপর বিচারক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গণমাধ্যমে মুর্তজা রায়হানের বান্ধবীর মৃত্যুর কথা জেনেছেন দাবি করে শাফায়াত বলেন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আমার বাসায় অভিযান চালায়। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আরাফাতসহ চারজন ও অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যেহেতু পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আমার বাসায় অভিযান চালায়, সেহেতু অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে আমি নিজেকে সন্দেহ করছি। আমি নিজেকে এ মামলায় সম্পৃক্ত হতে ইচ্ছুক।

নেহা গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ২টায় মোহাম্মদপুর থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, নেহাকে আটকের মধ্য দিয়ে এই মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেদিন কী ঘটেছিল তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

ডিসি হারুন বলেন, নেহা ও আরাফাত ঐদিন রাতে পার্টির আয়োজন করে। সেখানে বিষাক্ত মদপানেই ঐ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ওরা নিয়মিত রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় এ ধরনের পার্টির আয়োজন করত এবং নাচ করত বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত মদপানে ঐ ছাত্রী ও আরাফাতের মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি বিকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউল্যাবের ঐ শিক্ষার্থী (মৃত) ও তার প্রেমিক মর্তুজা রায়হানসহ পাঁচজন উত্তরার ‘ব্যাম্বু সুট’ রেস্টুরেন্টে যায় এবং মদপান করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ৩১ জানুয়ারি দুপুরে তার মৃত্যু হয়। মদপানে আরাফাতও মারা যায়। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা মোহাম্মদপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন।

বিডি প্রভাত/জেইচ