আগুনের ঘটনায় দায়ী কাউকে ছাড় নয় : র‍্যাব মহাপরিচালক

আগুনের ঘটনায় দায়ী কাউকে ছাড় নয় : র‍্যাব মহাপরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে আগুনের ঘটনায় তদন্তে দায়ী হিসেবে যাদের নাম বেরিয়ে আসবে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক আব্দুলাহ আল মামুন। 

শুক্রবার (৯ জুলাই) বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। 

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, আগুনের কারণ জানতে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিবেদনে কারো গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এদিকে শুক্রবার (০৯ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসন থেকে গ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি আগুন লাগার কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি দোষীদের শনাক্ত করবে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহান, জেলার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন, জেলা পুলিশের একজন প্রতিনিধি, নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর, বিএসটিআই এবং কলকারখানা অধিদফতরের জেলার একজন কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কারখানাটির ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ভবনের অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে শ্রমিকরা ভবনের ছাদে জড়ো হন। ছাদসহ বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন অনেকে।

এ সময় প্রাণ বাঁচাতে ভবনটি থেকে লাফিয়ে পড়েন শ্রমিক স্বপ্না রানী (৪৫) ও মিনা আক্তার (৩৩)। ঘটনাস্থলেই তাঁরা দুজন মারা যান। এরপর মোরসালিন (২৮) নামের একজন শ্রমিক প্রাণ বাঁচাতে ওই ভবনের তৃতীয় তলা থেকে লাফ দেন। মোরসালিনকে রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কারখানা থেকে শুক্রবার আরও ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। 

বিডি প্রভাত/জেইচ