অর্থলোভে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায় না: প্রধানমন্ত্রী

অর্থলোভে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায় না: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‌মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায়। অর্থলোভে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায় না।

যুবলীগ নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করতে গিয়েও যারা লোভের বশবর্তী হয়ে অর্থ-সম্পদকে বড় করে দেখেছে, তারা কিন্তু টিকতে পারেনি। শুধু বক্তব্য নয়, মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করতে হবে। জনকল্যাণের কথা চিন্তা করে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায়।

বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‌১৯৭৫ সালের পরে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও খালেদা জিয়া তারা শুধু নিজের স্বার্থেই কাজ করেছেন। দেশের স্বার্থে কাজ করেননি। তারা অর্থলোভে রাজনীতি করেছেন। এজন্য তারা কেউ টিকে থাকতে পারেননি।এজন্যই আজ বিএনপির দুরাবস্থা।

তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া একদিন বলেছিলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়া তো দূরের কথা, বিরোধীদলীয় নেত্রীও হতে পারবেন না। কিন্তু আজ ভাগ্যের কারণে বিষয়টি তার ওপরই ফলে গেছে। আজ তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রীও হতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‌আজকে জনগণের কাছে তাদের কোনো স্থান নেই এবং স্থান থাকবে না। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ উপমহাদেশের একটি সংগঠন, সবচেয়ে প্রাচীন সংগঠন হিসেবে ঠিকে আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যারা বাধা দিয়েছিল তাদের দোসরদের চক্রান্ত স্বাধীন দেশেও অব্যাহত আছে।

আলোচনা সভায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, যুবলীগকে বলতে চাই, জাতির পিতার সেই আদর্শ বুকে নিয়ে সংগঠন করতে হবে। তাহলেই এদেশে তরুণ সমাজের জন্য কাজ করা যাবে। তারুণ্য থেকেই যেন বিনিয়োগকারী সৃষ্টি হয়, তারুণ্য থেকেই যেন তাদের জ্ঞান তাদের মেধা দিয়ে এদেশ গড়ে তুলতে পারি। আর ভবিষ্যতে এদেশকে যেন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। সেভাবে কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনায় যুবলীগ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগী বহন, লাশ দাফন, কৃষকের ধানকাটা ও সবজি বাজারজাতকরণে সহায়তা ও এই শীতে কম্বল বিতরণ করেছে। এজন্য আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ।

বিডি প্রভাত/জেইচ